ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় দীর্ঘদিন ধরে চলা জুয়ার আসর বন্ধে পুলিশ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় হামলা চালিয়েছে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। হামলায় লুৎফুর রহমান সাজু নামে এক বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩ জন।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে দুল্লা ইউনিয়নের ইছাখালী টগারঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত লুৎফুর রহমান সাজু চণ্ডীমণ্ডপ চতল গ্রামের বাসিন্দা এবং দুল্লা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। আহতরা হলেন, বিন্নাকুড়ি এলাকার আব্দুল্লাহ ওরফে লম্বা আব্দুল্লাহ, মলাজানির খাটো আব্দুল্লাহ ও টগারঘাটের আ. রহিম।
জানা গেছে, দুল্লা ইউনিয়নের মলাজানি, বিন্নাকুড়ি ও ইছাখালীসহ বিভিন্ন পয়েন্টে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত জুয়ার আসর বসছিল। অভিযোগ রয়েছে, একটি চক্র প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে এসব আসর পরিচালনা করত। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বিষয়টি বারবার স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হলেও রহস্যজনক কারণে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত ছিল।
জানা গেছে, বিন্নাকুড়ি গ্রামের আব্দুল্লাহর ছেলে জাহিদুল চাকরিজীবী। সম্প্রতি তিনি ছুটিতে বাড়িতে এসে জানতে পারেন তাঁর বাবা নিয়মিত ওই জুয়ার আসরে যাতায়াত করেন। প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় জাহিদুল স্থানীয় লোকজনকে সংগঠিত করে বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজেই জুয়ার আসর ভাঙতে টগারঘাট এলাকায় যান। সেখানে গিয়ে নিজের বাবাকে জুয়া খেলা অবস্থায় দেখে জাহিদুল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং বাবাসহ জুয়াড়িদের গালাগাল শুরু করেন।
এ সময় বিএনপি নেতা লুৎফুর রহমান সাজু প্রতিবাদ করলে জাহিদুল ও এলাকাবাসীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে সাজুসহ চারজনকে মারধর করা হয়। এতে সাজু গুরুতর আহত হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
নিহত সাজুর চাচা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বজলুর রশীদ জানান, জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে জাহিদুল ও তাঁর সঙ্গীদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মারধরের ঘটনা ঘটে, যার ফলে সাজুর মৃত্যু হয়েছে।
মুক্তাগাছা থানার ওসি মোহা. লুৎফর রহমানের সরকারি ফোন নম্বরে শুক্রবার সন্ধ্যায় কল করে বন্ধ পাওয়া গেছে। পরে পরিদর্শক (তদন্ত) জুলুস খান সমকালকে জানান, ঘটনাস্থলে একটি কলাবাগান আছে, সেখানে নিয়মিত জুয়া খেলা হতো।
জুয়া খেলার সঙ্গে পুলিশের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে জানতে চাইলে অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমরা নিয়মিত জুয়া খেলার বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি।’
তিনি জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ মামলা করেনি।