ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ‘দেশ উদ্ধারের’ প্রতিশ্রুতি দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিয়েছিলেন নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। কিন্তু ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাঁর দেড় বছরের শাসনামল শেষে এখন বেরিয়ে আসছে ভয়ংকর সব তথ্য। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রাষ্ট্র পরিচালনার চেয়ে তিনি নিজের ও নিজের প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ হাসিলে বেশি ব্যস্ত ছিলেন। ক্ষমতার সর্বোচ্চ আসনে বসে তিনি মেতেছিলেন নজিরবিহীন ‘স্বার্থের উৎসবে’।
এক নজরে ড. ইউনূসের দেড় বছরের ‘ব্যক্তিগত অর্জন’ ও অনিয়ম:
বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন: দীর্ঘদিনের ২২টি আবেদন ঝুলে থাকলেও মাত্র ৩ মাসের মধ্যে ‘গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়’-এর অনুমোদন। আইনের তোয়াক্কা না করে ৫ কোটির পরিবর্তে মাত্র দেড় কোটি টাকার তহবিলেই মিলেছে এই সম্মতি।
বিশাল কর মওকুফ: গ্রামীণ ব্যাংককে ৫ বছরের জন্য আয়কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, যার ফলে রাষ্ট্র অন্তত ১,০০০ কোটি টাকার নিশ্চিত রাজস্ব হারাবে।
কর ফাঁকির অভিযোগ: গ্রামীণ কল্যাণ ট্রাস্টের ১,০৪৩ কোটি টাকার কর ফাঁকি এবং ৬৬৬ কোটি টাকা কর মওকুফের অবিশ্বাস্য সব আইনি সুবিধা গ্রহণ।
নিজেকে মামলা থেকে মুক্তি: ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতি ও শ্রম আইন লঙ্ঘনের আলোচিত ৭টি মামলা থেকে নিজেকে অব্যাহতি দান।
লাইসেন্স প্রাপ্তি: দীর্ঘ ১৬ বছর আটকে থাকার পর ইউনূসের গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসের জন্য জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স ও ই-ওয়ালেট লাইসেন্স আদায়।
শপথ ভঙ্গ: রাষ্ট্রীয় লাভজনক পজিশনে থেকে নিজ প্রতিষ্ঠানের সুবিধা গ্রহণ করে সংবিধানের ১৪৭ ধারা লঙ্ঘন ও শপথ ভঙ্গ।
দেশের শনির দশা: ইউনূস যখন নিজের আখের গুছাতে ব্যস্ত, তখন দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি, মব জাস্টিস, অগ্নিসংযোগ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবন ছিল বিপর্যস্ত।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ এই কর্মকাণ্ডকে ‘জনগণের সঙ্গে প্রতারণা’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. ইউনূস চরম ‘স্বার্থের সংঘাত’ (Conflict of Interest) তৈরি করেছেন। অন্যদিকে, ড. শাহদীন মালিক মনে করেন, সাংবিধানিক পদে থেকে এসব ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা নেওয়া সরাসরি সংবিধানের লঙ্ঘন।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ১৮ মাসের এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়টি ড. ইউনূসের জন্য ছিল তাঁর ঝুলে থাকা আইনি ঝামেলা মেটানো এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পাহাড়সম সুবিধা দেওয়ার এক সুবর্ণ সুযোগ। দেশের অর্থনীতি ও স্থিতিশীলতা যখন ধুঁকছিল, তখন তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের ‘ষোলোআনা’ স্বার্থ হাসিল করেছেন।