স্বপ্ন প্রতিদিন রিপোর্ট
কক্সবাজারের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এক করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে। মাত্র ৩০০ বর্গফুটের একটি ওয়ার্ডে ৮টি শয্যার ওপর ভরসা করে লড়ছে ৩৪টি শিশু। সংকীর্ণ এই জায়গায় প্রতিটি বিছানায় গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিচ্ছে ৩ থেকে ৪ জন শিশু।
ভয়াবহ উদ্বেগের বিষয় হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে দুই শিশুর, যা হাসপাতালের অন্যান্য রোগীর স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।
আজ ১লা এপ্রিল, বুধবার সকালে মহেশখালীর সাত মাস বয়সী শিশু হিরামণি এবং মঙ্গলবার রাতে রামুর ৯ মাস বয়সী শিশু বেবী মারা যায়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃত শিশুরা হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়া ও হার্টের জটিলতায় ভুগছিল। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের ৯০ শতাংশেরই বয়স এক বছরের নিচে।
২৫০ শয্যার কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের হাম কর্নারে তিল ধারণের জায়গা নেই। সরেজমিনে দেখা যায়, ২২ নম্বর ও ২৭ নম্বর শয্যায় ৪ জন করে শিশুকে রাখা হয়েছে। যমজ দুই শিশুকে নিয়ে মা মরিয়ম বেগম ১০ দিন ধরে এক বিছানায় অন্য শিশুদের সাথে লড়ছেন।
বিপজ্জনক পরিবেশ, গাদাগাদি করে থাকায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আরও বাড়ছে। শিশুদের মা-বাবারা নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন সুস্থ হওয়ার অপেক্ষায়।
আক্রান্ত এলাকা, মহেশখালী, রামু, পিএমখালী ও নাইক্ষ্যংছড়ির দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে আসা রোগীর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।
টিকাদানে অনীহা ও অসচেতনতাই রোগের প্রাদুর্ভাবের কারণ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
ভর্তি হওয়া অনেক শিশুর অভিভাবক স্বীকার করেছেন যে, তাদের সন্তানদের সময়মতো হামের টিকা দেওয়া হয়নি। কেউ কেউ আবার জানতেনই না কোন টিকা কিসের জন্য দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, ভিটামিন ‘এ’-এর অভাব এবং টিকা না নেওয়াই এই সংক্রমণের প্রধান কারণ।
সহকারী রেজিস্ট্রার শহিদুল আলম জানান, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। রোগীর চাপ এত বেশি যে বাধ্য হয়ে এক শয্যায় একাধিক শিশুকে রাখতে হচ্ছে।
তত্ত্বাবধায়ক মং টিন ঞো জায়গার সংকুলান না হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, দুর্গম এলাকার শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসছে।
সংক্রমণ রোগ বিশেষজ্ঞ মো. শাহজাহান নাজির, তিনি সতর্ক করে বলেন, হাম বিশ্বের অন্যতম সংক্রামক রোগ। যেসব এলাকায় টিকাদানের হার ৮৫ শতাংশের নিচে, সেখানে একজনের মাধ্যমে ৯০ শতাংশ শিশু সংক্রমিত হতে পারে।
কক্সবাজারের এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার এবং হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।






