স্বপ্ন প্রতিদিন রিপোর্ট
ঢাকা, ৩১ মার্চ: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমের অব্যবস্থাপনা এবং জীবনরক্ষাকারী টিকা ক্রয় ও বিতরণে অনীহার কারণে সারাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য সূত্র অনুসারে, এই সময়ে হামের কেস আগের তুলনায় ৭৫ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য ও বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালে হামের টিকাদান কভারেজ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ২০২৪ সালে প্রথম ডোজের কভারেজ প্রায় ৯৫% এবং দ্বিতীয় ডোজ ৯৩% থাকলেও ২০২৫ সালে তা নেমে আসে প্রায় ৫৭% এর কাছাকাছি। এই টিকা ঘাটতি ও নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির ব্যাঘাতের ফলে হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
ঢাকার মহাখালী ইনফেকশাস ডিজিজ হাসপাতালসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে শিশু রোগীদের ভিড় বেড়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৬০০ এর বেশি হামের কেস শনাক্ত হয়েছে এবং অন্তত ৩৮-৪৬ জন শিশু মারা গেছে, যার মধ্যে বেশিরভাগই মার্চ মাসে।
টিকা ক্রয়ে অনীহা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে টিকা সংগ্রহ ও বিতরণে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ইউনিসেফ ও গাভির মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় টিকা সময়মতো কেনা ও বিতরণ করা হয়নি। ফলে রুটিন ইমিউনাইজেশন প্রোগ্রাম ব্যাহত হয়। নুরজাহান বেগমের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য খাতে এই অবহেলা শিশুদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. রফিকুল ইসলামসহ অনেকে সরাসরি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকা প্রদানে ব্যর্থতার কারণেই এই প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। অনেক অভিভাবক ও রাজনৈতিক দলের নেতারা নুরজাহান বেগমের অদক্ষতা ও অবহেলার জন্য দায়ী করে তার শাস্তি দাবি জানিয়েছেন। কেউ কেউ এমনকি টিকা কেনার টাকা আত্মসাতের অভিযোগও তুলেছেন।
শিশু মৃত্যুর মিছিল ও জনক্ষোভ
হামের জটিলতায় আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে অপুষ্টি ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা থাকায় মৃত্যুর হার বেড়েছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় হাসপাতালগুলোতে রোগীদের চাপ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, টিকাদান কর্মসূচি না চালালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে হাম মোকাবিলায় ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে এবং এপ্রিল মাস থেকে বিশেষ টিকাদান অভিযান শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আগের বছরগুলোতে টিকাদান অভিযান না হওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।
প্রশ্ন উঠছে দায়িত্বশীলতা নিয়েঅন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বাস্থ্য খাতে টিকা সংক্রান্ত বাজেট ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি উঠেছে। জনগণের প্রশ্ন— শিশুদের জীবনরক্ষাকারী টিকা কেন সময়মতো সরবরাহ করা হয়নি? নুরজাহান বেগমের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কেন এত বড় সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছে?
হামের এই প্রাদুর্ভাব শুধু একটি স্বাস্থ্য সংকট নয়, বরং অন্তর্বর্তী সরকারের অব্যবস্থাপনা ও অগ্রাধিকারহীনতার একটি করুণ উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিশুদের এই অকাল মৃত্যু দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এক অমার্জনীয় অবহেলা বলে মনে করছেন অনেকে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি, দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি চালু করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হোক এবং এই সংকটের জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হোক।






