উত্তর আফ্রিকার লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসে যাওয়ার পথে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে অন্তত ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ১৮ জনই বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলার তিন উপজেলার মোট ১২ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে জেলায় ১০ জনের তথ্য পাওয়া গেলেও সর্বশেষ দিরাই উপজেলার আরও দুইজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ায় সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে দিরাই উপজেলায় ৬ জন, দোয়ারাবাজার উপজেলায় ১ জন এবং জগন্নাথপুর উপজেলায় ৫ জন রয়েছেন।
উদ্ধার হওয়া জীবিতদের বরাতে জানা যায়, দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় তীব্র খাবার ও পানির সংকটে একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন যাত্রীরা। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠায় অনেকেই মৃত্যুবরণ করেন।
পরে পাচারকারীদের নির্দেশে মৃতদেহগুলো ভূমধ্যসাগরে ফেলে দেওয়া হয়।
নিহতদের মধ্যে দিরাই উপজেলার তারাপাশা গ্রামের নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০), সাজিদুর রহমান (২৮), শাহান মিয়া (২৫), রনারচর গ্রামের মুজিবুর রহমান (৩৮), বাসুরি গ্রামের মো. সুহানুর রহমান এবং মাটিয়াপুর গ্রামের তায়েফ মিয়া (নিখোঁজ, ধারণা করা হচ্ছে মৃত) রয়েছেন।
দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগরের আবু ফাহিম এবং জগন্নাথপুর উপজেলার সোহানুর রহমান, শায়েখ আহমেদ, মো. নাঈম, আমিনুর রহমান ও মোহাম্মদ আলীর নাম স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, দিরাই উপজেলার এক মানবপাচারকারীর সঙ্গে জনপ্রতি প্রায় ১২ লাখ টাকায় চুক্তি করে তারা লিবিয়া হয়ে গ্রিসে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন।
চুক্তি অনুযায়ী বড় ও নিরাপদ নৌযানে নেওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাদের ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় তোলা হয়, যা এই মর্মান্তিক ঘটনার অন্যতম কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবারের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। স্থানীয়রা দ্রুত নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জড়িত মানবপাচার চক্রকে শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবি করেন তারা।
মাটিয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা ইকবাল চৌধুরী বলেন, লিবিয়া থেকে ইউরোপ যাওয়ার পথে এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তায়েফ আর আমাদের মাঝে নেই এই খবরটা খুব কষ্ট দিয়েছে। আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।
তিনি বলেন, দালালদের প্ররোচনায় তরুণদের জমিজমা ও সম্পদ কিক্রি করে পরিবার ইউরোপে পাঠিয়েছিল। কিন্তু পৌছার আগেই সাগরে সলিল সমাধি হয়েছে। খাবার ও পানি সংকটে মারা গেছে তারা।
দিরাই থানার ওসি এনামুল হক চৌধুরী বলেন, আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পেয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলছি। তারা অভিযোগ করলে আমরা ব্যবস্থা নেব।






