1. admin@shwapnoprotidin.com : admin : ddn newsbd
সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
লক্ষ্মীপুরে বৈষম্যবিরোধী, ছাত্রদল ও পুলিশের মধ্যে ত্রিমুখি সংঘর্ষ: ওসিসহ আহত ১০ মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তনের প্রবণতা সংস্কৃতির ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপ: উদীচী ধোঁয়াশায় বিজিবি-বিএসএফ: গুলিবিদ্ধ সাদ্দামের লাশ ওপারেই, ফিরবে কবে? তেরখাদায় সরকারি বরাদ্দের ব্রিজ নির্মাণে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ নেত্রকোণায় দুই হিন্দু আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে আগুন ওসিসহ আহত ২০, বৈষম্যবিরোধীদের সঙ্গে পুলিশ-ছাত্রদলের সংঘর্ষ জ্বালানি খাত নিয়ে দুঃসংবাদ শোনালেন অর্থমন্ত্রী হামের উপসর্গে একদিনে ১২ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৭৪ এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার, গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ কুষ্টিয়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু

স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নেই, জমি ‘দখল করে’ জমজমাট ব্যবসা

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬
  • ৫৬ সময় দর্শন

স্বপ্ন প্রতিদিন রিপোর্ট

চারপাশে সারি সারি টিনের দোকান। ক্রেতাদের উপস্থিতিতে চলছে জমজমাট বেচাকেনা। দোকানগুলোর মাঝে দাঁড়িয়ে পুরোনো দোতলা ভবন। তবে জানালা-দরজা নেই। ভেতরে গিয়ে দেখা যায় দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে। বেরিয়ে আছে মরিচা ধরা রড। ভবনজুড়ে ময়লার স্তূপ। অথচ একসময় এটি ছিল লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসার ভরসাস্থল। কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাব আর মামলার কারণে এমন বেহাল অষ্টগ্রাম উপজেলার আদমপুরের মা ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্র। গত শুক্রবার দুপুরে অষ্টগ্রামের আদমপুর বাজারে গেলে এ দৃশ্য চোখে পড়ে।

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নে ১৯৬৫ সালে ৪২ শতাংশ জায়গা নিয়ে মা ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি চালু হয়। তবে প্রায় ২০ বছর ধরে সেখানে চিকিৎসা না হওয়ায় জায়গা দখল করে ব্যবসা করছেন প্রভাবশালীরা। জানা গেছে, ২০ বছর আগে চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. শিবির আহমেদ অবসরে যাওয়ার পর আর কেউ কেন্দ্রের দায়িত্বে আসেননি। এতে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় কয়েকজন প্রথমে অস্থায়ীভাবে দোকান বসিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। পরে স্থায়ী দোকান বসিয়েছেন তারা।

উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে হাওরাঞ্চল আদমপুর ইউনিয়নের দূরত্ব স্থল ও নৌপথে প্রায় ২০ কিলোমিটার। এ কারণে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ছিল তাদের একমাত্র ভরসা। সম্প্রতি আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নে ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্রের ভবন হয়েছে। এখনও চিকিৎসাসেবা চালু হয়নি।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কামরুল হাসান মহসিন, রাসেল মিয়া, মজিবর মিয়া, কেবল মিয়া, বুলবুল মিয়া, সোহেল মিয়া, মোহম্মদ মিয়া, মিজান মিয়া ও শওকত আলী বলেন, সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুল করিম বাদলকে মাসে এক হাজার টাকা ভাড়া দেন তারা। অনেকে নিজ উদ্যোগেও ঘর তুলে ব্যবসা করছেন। তারা কাউকে ভাড়া দেন না।

এ বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুল করিম বাদল বলেন, ৪২ শতাংশ জায়গা সরকারের নামে মাঠ জরিপে আছে। তাদের কেনা ৩ শতাংশ জায়গা নিয়ে মামলা চলছে। সরকার চাইলে তিনি জমি দিতে রাজি আছেন। দখলদাররা দোকান তুলে ব্যবসা করছেন। একটি পক্ষ ১৭ শতাংশ জায়গা আদালতের রায়ে ভোগদখল করছে। কেন্দ্রটি বেদখল হলে রোগীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছবে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা রইস উদ্দিন বলেন, কেন্দ্র থেকে আগে মানুষ চিকিৎসা পেয়েছেন। এখন অষ্টগ্রাম, পার্শ্ববর্তী হবিগঞ্জ বা কিশোরগঞ্জে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়। বর্ষা মৌসুমে নৌকায়, শুষ্ক মৌসুমে হেঁটে ও ছোট বাহনে গিয়ে চিকিৎসা নিতে ভোগান্তি পোহাতে হয়।

আদমপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হারিস মিয়া জানান, মা ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিত্যক্ত থাকায় চিকিৎসাক্ষেত্রে আমাদের এলাকার রোগীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। অর্থনৈতিকভাবেও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। একজন ব্যক্তি বা শিশুর প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে গেলেও ৫০ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিয়ে হবিগঞ্জ জেলা সদরে যেতে হয়। যার সর্বনিম্ন খরচ হয় দুই থেকে তিন হাজার টাকা।

ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মোন্নাফ বলেন, বিগত দিনে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানালে তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু একটি প্রভাবশালী মহলের কারণে উদ্যোগ নিতে পারেননি। মানুষকে নিরুপায় হয়ে চিকিৎসার জন্য হবিগঞ্জ যেতে হচ্ছে। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রবীন বিশ্বাস জানান, কেন্দ্রটির জায়গা প্রভাবশালীদের দখলে থাকায় মামলা চলছে। আদমপুরে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা দেওয়া হবে।

অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিলভিয়া স্নিগ্ধা বলেন, তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি সম্পর্কে জানেন না। পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেবেন। কিশোরগঞ্জ জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক মাহবুবুর রহমান বলেন, আদমপুর মা ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি এখনও পরিত্যক্ত ঘোষণা হয়নি। মামলার রায় পেলে অবৈধ ব্যবসায়ীদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে উচ্ছেদ করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
২০২5© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host