সুনামগঞ্জ শহরের যানজট নিরসন ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে শুরু হওয়া চারলেন প্রকল্পের কাজ চলছে ধীরগতিতে। বন বিভাগের গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি আর অবৈধ দখলের কারণে থমকে আছে এই মেগা প্রকল্পের অগ্রগতি। ফলে ধুলোবালি আর তীব্র যানজটে অতিষ্ঠ পৌরবাসী। আধুনিক সুনামগঞ্জের স্বপ্ন নিয়ে শুরু হওয়া চারলেন প্রকল্পের প্রায় ৪ কিলোমিটার (৩.৮ কিমি) দীর্ঘ সড়কের কাজ যে গতিতে চলার কথা ছিল, তার বাস্তবায়ন নেই। সড়কের একাধিক জায়গায় মাটি ফেলে রাখার কারণে ধুলোবালিতে নিমজ্জিত পৌর শহর। এ ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো সড়ক ভেঙে রাখায় জনজীবন এখন অতিষ্ঠ।
প্রায় পাঁচ মাস আগে ১৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের নির্মাণ কাজে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সড়কের দু-পাশের শত শত পুরোনো গাছ। বন বিভাগের আপত্তিতে এসব গাছ কাটতে না পারায় অনেক জায়গায় থমকে আছে কাজ। অন্যদিকে সড়কের একাধিক স্থানের বৈদ্যুতিক খুঁটি ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) জমি দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে এখনও মেলেনি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ। পৌর শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট থেকে হাসন তোড়ন পর্যন্ত বিস্তৃত এই প্রকল্পে ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ফুটপাত ও আধুনিক স্ট্রিট লাইট স্থাপনের কথা থাকলেও বর্তমানে কাজের অগ্রগতি মাত্র ১৫ শতাংশ। যদিও ২০২৭ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। তবে ধীরগতিতে কাজ চলায় জনমনে দেখা দিয়েছে চরম শঙ্কা।
চালকেরা বলছেন, প্রকল্পের কাজের ধীরগতিতে শহরজুড়ে সারাদিনই লেগে থাকে তীব্র যানজট। বিশেষ করে ট্রাফিক পয়েন্ট থেকে হাসন তোড়ন পর্যন্ত সড়কে যাতায়াত করতে গিয়ে নাকাল হচ্ছেন চালক ও যাত্রীরা। বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছগুলো অপসারণ করা হলে দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা জানিয়েছেন লেন সাইট ইঞ্জিনিয়ার মাসুম আহমেদ পলাশ।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ বলছেন, যেসব অংশে বিদ্যুতের খুঁটি, গাছ ও জায়গা দখলমুক্ত আছে শুধুমাত্র সেখানেই সড়কের নির্মাণ কাজ চলছে। গাছ অপসারণ আর জমি উদ্ধার না হলে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তবে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছগুলো অপসারণ করা হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সড়কের কাজ শেষ হবে।
এদিকে বন বিভাগ থেকে গাছ কাটায় বাধা থাকায় অনেক অংশে কাজ পুরোপুরি থমকে আছে। সড়কের দুইপাশের শতশত গাছের হিসেব তাদের কাছে না থাকলেও সুনামগঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মোহাম্মদ নাজমুল আলম বলছেন, যেসব লটে গাছ কাটার অনুমতি মিলেছে সেসব লটের গাছ কাটতে ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হচ্ছে।






