1. admin@shwapnoprotidin.com : admin : ddn newsbd
সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
লক্ষ্মীপুরে বৈষম্যবিরোধী, ছাত্রদল ও পুলিশের মধ্যে ত্রিমুখি সংঘর্ষ: ওসিসহ আহত ১০ মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তনের প্রবণতা সংস্কৃতির ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপ: উদীচী ধোঁয়াশায় বিজিবি-বিএসএফ: গুলিবিদ্ধ সাদ্দামের লাশ ওপারেই, ফিরবে কবে? তেরখাদায় সরকারি বরাদ্দের ব্রিজ নির্মাণে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ নেত্রকোণায় দুই হিন্দু আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে আগুন ওসিসহ আহত ২০, বৈষম্যবিরোধীদের সঙ্গে পুলিশ-ছাত্রদলের সংঘর্ষ জ্বালানি খাত নিয়ে দুঃসংবাদ শোনালেন অর্থমন্ত্রী হামের উপসর্গে একদিনে ১২ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৭৪ এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার, গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ কুষ্টিয়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু

ঈদে সড়কে অব্যবস্থাপনায় ঝরে গেল ২৭৪ প্রাণ; দায় কি নেবে সরকার?

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৫১ সময় দর্শন

সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে দেশে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা আবারও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ঈদের আগে ও পরে গত ১০ দিনে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭৪ জন নিহত হয়েছেন। এ সময়ে আহত হয়েছেন আরও অনেকে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতিরিক্ত যানচাপ, বেপরোয়া গতি এবং দুর্বল সড়ক ব্যবস্থাপনাই এ প্রাণহানির প্রধান কারণ।

সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ১৭ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ ভোর পর্যন্ত সারা দেশে ৩৪২টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ২৭৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সংগঠনটির তথ্যমতে, গত বছরের ঈদুল ফিতরের ছুটিতে ১১ দিনে ২৪৯ জন নিহত হয়েছিলেন। সে তুলনায় এবার ঈদকে ঘিরে সড়কে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বেড়েছে।

এবারের ঈদে কয়েকটি বড় দুর্ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। গত ২১ মার্চ রাতে কুমিল্লায় একটি বাস ও ট্রেনের সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হন। এর কয়েক দিন পর, ২৫ মার্চ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে একটি যাত্রীবাহী বাস ডুবে ২৬ জনের মৃত্যু হয়। এই দুই ঘটনায় ঈদযাত্রার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) জানিয়েছে, ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ৭ দিনে দেশে ৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১০০ জন নিহত এবং ২১৭ জন আহত হয়েছেন। যদিও বেসরকারি ও সরকারি হিসাবের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে, তবু উভয় তথ্যেই ঈদকেন্দ্রিক সড়ক পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের ‘রিসার্চ, প্ল্যানিং অ্যান্ড ইনোভেশন’ বিভাগ পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। মোট দুর্ঘটনার প্রায় ৪২ শতাংশই ঘটছে অতিরিক্ত গতির কারণে।

গবেষণাটিতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ যুক্ত ছিল। এতে বলা হয়েছে, ঈদের সময় সড়কে যানবাহনের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। তাই এ সময়ে বাড়তি সতর্কতা, কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। তবে বাস্তবে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে, সড়ক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের দুর্বলতা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারান এবং প্রায় ১০ হাজার মানুষ আহত হন। তবে এসব তথ্য মূলত গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়। ফলে দুর্ঘটনার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনা অনেক সময় এই পরিসংখ্যানে যুক্ত হয় না।

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপের ওপর জোর দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে- ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ করা, চালকদের বৈধ লাইসেন্স নিশ্চিত করা, বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি, ঈদকেন্দ্রিক বিশেষ সমন্বিত অভিযান পরিচালনা, দুর্ঘটনাপ্রবণ সড়ক ও মহাসড়কে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল দুর্ঘটনার পর শোক প্রকাশ নয়। বরং দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সড়ক নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই প্রাণহানি কমানো সম্ভব। তবে আনন্দের ঈদে এত এত প্রাণহানির দায় কি নেবে সরকার?

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
২০২5© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host