1. admin@shwapnoprotidin.com : admin : ddn newsbd
সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
লক্ষ্মীপুরে বৈষম্যবিরোধী, ছাত্রদল ও পুলিশের মধ্যে ত্রিমুখি সংঘর্ষ: ওসিসহ আহত ১০ মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তনের প্রবণতা সংস্কৃতির ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপ: উদীচী ধোঁয়াশায় বিজিবি-বিএসএফ: গুলিবিদ্ধ সাদ্দামের লাশ ওপারেই, ফিরবে কবে? তেরখাদায় সরকারি বরাদ্দের ব্রিজ নির্মাণে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ নেত্রকোণায় দুই হিন্দু আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে আগুন ওসিসহ আহত ২০, বৈষম্যবিরোধীদের সঙ্গে পুলিশ-ছাত্রদলের সংঘর্ষ জ্বালানি খাত নিয়ে দুঃসংবাদ শোনালেন অর্থমন্ত্রী হামের উপসর্গে একদিনে ১২ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৭৪ এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার, গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ কুষ্টিয়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু

তেজগাঁও থেকে বিপুল মানব খুলি জব্দ, বেরিয়ে এলো ভয়ংকর তথ্য

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬
  • ৫৭ সময় দর্শন
সংগৃহীত ছবি

 অনলাইন ডেস্ক
কবর থেকে চুরি করা মানব কঙ্কাল বিক্রির অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (৯ মার্চ) রাতে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের মণিপুরীপাড়া, তেজগাঁও কলেজ ও উত্তরা এলাকা থেকে মো. ফয়সাল আহম্মেদ (২৬) ও কাজী জহুরুল ইসলাম ওরফে সৌমিক (২৫)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪৭টি মাথার খুলি ও বিপুল পরিমাণ মানবদেহের হাড়সহ কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ইবনে মিজান।

জানা গেছে, ‎মো. ফয়সাল আহম্মেদ উত্তরার সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে ফাইনাল পরীক্ষা দিয়ে ইন্টার্নশিপের জন্য অপেক্ষা করছেন। একই কলেজের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী কাজী জহুরুল ইসলাম। তারা গত কয়েক বছর ধরেই কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছে এবং অনলাইনে নিজেদের গ্রুপের মাধ্যমে কঙ্কাল বিক্রি করে আসছেন। এ কাজে জড়িত প্রায় সাতজনের একটি সক্রিয় চক্র। কবর থেকে চুরি করে এসব কঙ্কাল বিক্রি করতেন তারা।

 

ডিসি মোহাম্মদ ইবনে মিজান বলেন, ‘রমজানের শুরু থেকে আমাদের বিশেষ অভিযান চলমান। সোমবার রাতে তেজগাঁও থানা-পুলিশ বিশেষ অভিযানের প্রস্তুতিকালে তেজগাঁও মণিপুরীপাড়ার একটি জায়গায় মানব কঙ্কাল বিক্রির চেষ্টার গোপন তথ্য জানা যায়। পুলিশ সেখানে গিয়ে কাজী জহুরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির সন্দেহজনক চলাচল দেখে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।

একপর্যায়ে তার হেফাজত থেকে একটি মানব কঙ্কাল জব্দ করা হয়।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘জহুরুলকে আটকের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদে এর সঙ্গে জড়িত আরো বেশ কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে এবং আরো দুজন কঙ্কালসহ তেজগাঁও কলেজের সামনে অবস্থা করছে বলে তথ্য পাওয়া যায়। পরে সেখান থেকে মো. আবুল কালাম (৩৯) ও আসাদুল মুন্সী (৩২) নামের দুজনকে দুটি মানব কঙ্কালসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তবে এ দুজন শিক্ষার্থী নয়। তাদের মধ্যে কালামের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে কঙ্কাল উত্তোলনের অভিযোগে মামলা হয়েছিল।

এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে মাদকসহ মানব কঙ্কাল উত্তোলন ও চুরির ঘটনায় বিভিন্ন থানায় ২১টি মামলা রয়েছে। মুন্সীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে।’গ্রেপ্তার তিনজনকে থানায় নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা একটি সংঘবদ্ধ চক্র উল্লেখ করে ডিসি বলেন, ‎‘তারা দেশব্যাপী এটা পরিচালনা করে আসছে। এ সময় তারা জানায়, জব্দ করা তিনটি কঙ্কাল ছাড়াও উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ৯ নম্বর সেক্টরে সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজের হোস্টেলের একটি কক্ষে ৪৪টি মাথার খুলি ও মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গের হাড় রয়েছে। পরে সেখান থেকে বিভিন্ন ব্যাগ ও বস্তায় রাখা আরো ৪৪টি মাথার খুলি ও মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গের হাড় উদ্ধারসহ চক্রের মূল হোতা মো. ফয়সালকে আটক করা হয়।’

‎জিজ্ঞাসাবাদে ফয়সাল জানান, তাদের একটি অনলাইন গ্রুপ আছে। এটির নাম বোন্স সেলিং (হাড় বিক্রি)। সেখানে তাদের ৭০০ জন কাজ করেন। গ্রুপটিতে ২০ হাজার সদস্য রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে দুই শিক্ষার্থী এই কঙ্কাল বিক্রির সঙ্গে জড়িত। এখন পর্যন্ত তারা কেউ ৫০টি, কেউ ২০টি কঙ্কাল বিক্রি করেছেন। তাদের সঙ্গে আরো অনেকে জড়িত রয়েছেন যারা কবর থেকে লাশগুলো উত্তোলন করেন। তারা মূলত গাজীপুর, ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর অঞ্চল থেকে এসব কঙ্কাল নিয়ে আসেন।’

‎ডিসি ইবনে মিজান বলেন, ‘মাঠপর্যায় থেকে তারা ৬-৮ হাজার টাকায় কঙ্কালগুলো কেনেন। পরে সেগুলো ১৫-২০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। তারা কঙ্কাল বিক্রি করেন, তাদের কলেজের শিক্ষার্থীরা তা জানতেন। যখন কেউ অনলাইনে কঙ্কাল কেনার জন্য বুকিং দেন তখন তারা ১-২ সপ্তাহ সময় নেন। শিক্ষার্থীদের কাছে এবং যারা বিক্রি করত তাদের কাছেই তারা এসব কঙ্কাল বিক্রি করতেন। তারা চারজনই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত। লাশ কবরস্ত করার এক বছর পর তারা সেটি পর্যবেক্ষণ করে তুলে নিয়ে আসেন। এ ক্ষেত্রে অরক্ষিত কবরগুলোতেই এই কাজগুলো করতেন।

যেসব কবরে সিসি ক্যামেরা নাই, পর্যাপ্ত আলো নাই, নিরাপত্তা নেই সেসব কবর থেকেই তাদের লোকবল দিয়ে কঙ্কালগুলো সংগ্রহ করতেন। পরে কেমিক্যালের মাধ্যমে সেগুলো প্রক্রিয়া করে শিক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করতেন। তাদের আজই আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়ে আসা হবে। জিজ্ঞাসাবাদে আরো কারা কারা জড়িত সেই বিষয়গুলো বের করে আনার চেষ্টা করা হবে।’

ডিসি ইবনে মিজান জানান, কোনো পরিবার বা স্বজন যদি তাদের স্বজনদের লাশের জন্য অভিযোগ করেন তাহলে সেগুলো ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে।

 

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
২০২5© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host