স্টাফ রিপোর্টার
ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রোববার (৮ মার্চ) দিবাগত রাতে তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক সাইদুর রহমানসহ ৭ জনকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
আটককৃতদের রাত ২টার দিকে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আটককৃতরা হলেন:
- জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক সাইদুর রহমান
- সদস্য সচিব আশিকুর রহমান জীবন
- সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তৌফিক হাসান
- যুগ্ম আহ্বায়ক অন্তর হোসেন রিজু
- দ্য রেড জুলাইয়ের আহ্বায়ক আবু হাসনাত তানাঈম
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির
- অপর একজনের নাম এখনো প্রকাশিত হয়নি
পুলিশ সূত্র জানায়, শনিবার (৭ মার্চ) রাতে শহরের তাজ ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল নিতে গিয়ে বিক্রয়কর্মীদের মারধরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ফারদিন আহমেদ নিরব (২২/২৫) নিহত হন।
এ ঘটনার জের ধরে রাতেই উত্তেজিত বৈছাআ সদস্যরা তাজ ফিলিং স্টেশনসহ আরেকটি পাম্পে ভাঙচুর চালায় এবং কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা জে লাইন, রয়েল পরিবহন ও গোল্ডেন লাইন নামের তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগ করে। ফলে বাসগুলো পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
এই অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পরিবহন শ্রমিকরা আজ (সোমবার) সকাল থেকে ঝিনাইদহ-ঢাকা, ঝিনাইদহ-খুলনা ও ঝিনাইদহ-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন, যা যান চলাচল ব্যাহত করে। ঘটনার পর ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে গত রাতেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বস্থানীয়দের আটক করে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, “আটককৃতদের বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও হত্যাকাণ্ডের জেরে উস্কানির অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।”
এ ঘটনা নিয়ে স্থানীয় পরিবহন শ্রমিকরা কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন এবং দোষীদের দ্রুত বিচার দাবি করেছেন। অন্যদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা আটকদের মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদের ঘোষণা দিয়েছেন।
ঝিনাইদহ সদর থানায় নিহত নিরবের ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং র্যাব ইতিমধ্যে তিন কর্মচারীকে আটক করেছে।







