1. admin@shwapnoprotidin.com : admin : ddn newsbd
সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২১ অপরাহ্ন

বনমোরগ উদ্ধারের পর বনে ‘দেশি মোরগ’ অবমুক্ত করে বনমোরগ খেয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬
  • ৪৪ সময় দর্শন

 

স্বপ্ন প্রতিদিন রিপোর্ট

স্থানীয় বাজার থেকে একটি বনমোরগ কিনে বাড়ি ফিরছিলেন এক ব্যক্তি। পথে তাকে আটকায় বন বিভাগ। তার কাছ থেকে বনমোরগটি জব্দ করে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী জব্দ করা বন্যপ্রাণী নিকটবর্তী বনে অবমুক্ত করার কথা সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ কর্মকর্তার। কিন্তু সেই বনমোরগ অবমুক্ত না করে খেয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে এক বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ উঠেছে উপজেলার জালিয়াপাড়া রেঞ্জের কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তিনি দাবি করেছেন, জব্দ করা বনমোরগটি বনে অবমুক্ত করা হয়েছে। এ দাবির সমর্থনে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে একটি ছবিও পাঠান। তবে সেই ছবিতে তাকে একটি দেশি মোরগ অবমুক্ত করতে দেখা যায়। জানা গেছে, গুইমারা উপজেলার জালিয়াপাড়া রেঞ্জ কার্যালয়ের সামনে থেকে বনমোরগটি জব্দ করা হয়। যার কাছ থেকে মোরগটি জব্দ করা হয়েছে, তিনি মাটিরাঙ্গা উপজেলার শান্তিপুর এলাকার বাসিন্দা। ওই ব্যক্তি জানান, স্থানীয় বাজার থেকে বনমোরগটি কিনে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা তার কাছ থেকে মোরগটি জব্দ করেন। পরে স্থানীয় কয়েকজনকে সাক্ষী রেখে একটি মুচলেকায় তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। বাড়ি ফিরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বন বিভাগের পক্ষ থেকে ‘বনমোরগ অবমুক্তের’ একটি ছবি দেখতে পান। তবে ছবির মোরগটি তার কাছ থেকে জব্দ করা বনমোরগ নয় বলে জানান তিনি। জব্দ করা মোরগের সঙ্গে ছবির মোরগের কোনো মিল নেই বলে জানান তিনি। এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা রাকিব হোসেনও একই দাবি করেছেন। তিনি জানান, বনমোরগ জব্দ করার সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং নিজের মোবাইল ফোনে ছবিও তুলেছিলেন। পরে যে মোরগ অবমুক্ত করার ছবি প্রকাশ করা হয়েছে, সেটি জব্দ করা বনমোরগ নয়; বরং একটি সাধারণ দেশি মোরগ। স্থানীয় দোকানি আব্দুর রহমান জানান, বন কর্মকর্তা বনমোরগটি খেয়ে ফেলেছেন। কর্মচারীদের কারো পালা দেশি মোরগ ছাড়ার ছবি তুলেছেন। তিনি বলেন, আমি ফেসবুকে ছবি দেখেছি। দুইটা মোরগের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। দেশি মোরগটাও সন্ধ্যার পর বন থেকে ঘুরে ঘরে এসে ঢুকবে। বন কর্মকর্তা আমাদেরকে ‘মুরগি’ বানিয়েছেন আসলে। এমন লোক বন আর বন্যপ্রাণি রক্ষা করবে কি, খেয়ে সাবাড় করে ফেলবে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জালিয়াপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, জব্দ হওয়া বনমোরগটি গুইমারা সেনা রিজিওনের পাশের বনে অবমুক্ত করা হয়েছে। গণমাধ্যমে পাঠানো ছবির সঙ্গে জব্দকৃত বনমোরগের মিল না থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ছবিটি গত বছরের। তবে আগের বছরের ছবি কেন পাঠানো হলো এবং সেখানে দেশি মোরগ অবমুক্ত করার কারণ কী—এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, গণমাধ্যমে পাঠানো ছবির মোরগটি বনমোরগ নয়।

এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা বলেন, বনমোরগ জব্দের পর সেটি অবমুক্ত করা হয়েছে—এমন তথ্য তাকে জানানো হয়েছে। তবে যদি ঘটনাটির মধ্যে কোনো গরমিল বা অনিয়ম থেকে থাকে, তাহলে তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
২০২5© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host