বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) গত অক্টোবরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কথিত অনিয়মের বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি রোববার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে ভবিষ্যতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে গঠনতন্ত্র সংশোধনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এনএসসি সদর দপ্তরে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সেলিম ফকির এবং এনএসসি-র ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসান ১,০০০ পৃষ্ঠারও বেশি দীর্ঘ এই প্রতিবেদনটি গ্রহণ করেন।
সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে আরও ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সেলিম ফকির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ডিবি এডমিন ও দক্ষিণ) মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম, ক্রীড়া সাংবাদিক এ টি এম সাইদ উজ্জামান এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সালেহ আকরাম সম্রাট।
আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনারা জানেন, একটি তদন্তের দায়িত্ব নেওয়ার কারণে আমরা আজ এখানে এসেছি। তদন্ত শেষ করে আমরা আজ রিপোর্ট জমা দিতে এসেছি এবং তা সম্পন্ন করেছি। আমরা নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করেছি এবং যাদের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছি তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। আমরা জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে তা সঠিকভাবে উপস্থাপন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘সংক্ষেপে বলতে গেলে, কাউকে অভিযুক্ত না করে আমরা নির্বাচনের বিষয়ে যা পেয়েছি তার একটি নিরপেক্ষ রিপোর্ট জমা দিয়েছি। রিপোর্টটি দেখলে আপনারা বুঝতে পারবেন এতে কী আছে। আমরা কাউকে দোষারোপ করিনি। আমরা বস্তুনিষ্ঠভাবে নির্বাচনি ঘোষণাগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি এবং নির্বাচনি তথ্যের ওপর মন্তব্য করেছি। আজ রিপোর্টটি জমা দেওয়া হয়েছে।’
প্রতিবেদনে সুপারিশের বিষয়ে জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘সম্ভবত—হ্যাঁ, আমরা কিছু সুপারিশ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। উদাহরণস্বরূপ, কীভাবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা যায় বা বোর্ডের বিষয়ে কোনো উন্নয়নের প্রয়োজন আছে কি না, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
তিনি নিশ্চিত করেন যে কমিটি গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা কিছু সুপারিশ করেছি—আপনারা সেগুলো রিপোর্টে দেখতে পাবেন। বোর্ড যদি সেগুলোকে উপযুক্ত মনে করে, তবে তারা সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে।’
আসাদুজ্জামান আরও জানান যে, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কমিটির সামনে উপস্থিত হননি। তবে গত বছরের বিসিবি নির্বাচন পরিচালনাকারী নির্বাচন কমিশন একটি লিখিত জবাব জমা দিয়েছে। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও কমিটির কাছে লিখিত জবাব দিয়েছেন।






