1. admin@shwapnoprotidin.com : admin : ddn newsbd
সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ড. ইউনূসের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইনি নোটিশ অসাম্প্রদায়িক বৈশাখি উৎসবের শোভাযাত্রা বন্ধের অপচেষ্টা, এবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ উগ্র মতাদর্শীরা নিউইয়র্ক আদালতে জবানবন্দি দেবেন আহসান এইচ মনসুর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে থেকে মব জাস্টিস ঠেকাতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি: আসিফ নজরুল জামালপুরে জ্বালানি তেল না পেয়ে সড়ক অবরোধ তফসিল বুধবার, ১২ মে সংরক্ষিত নারী আসনে ভোটগ্রহণ বিসিবি নির্বাচনের তদন্ত রিপোর্ট জমা, গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের পরামর্শ আওয়ামী লীগের রাজনীতিই করে যেতে চান সাকিব মাটি খেকোদের থাবায় একের পর এক পাহাড় সাবাড় শাহজালাল সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ, জ্বালানি সংকট

অসাম্প্রদায়িক বৈশাখি উৎসবের শোভাযাত্রা বন্ধের অপচেষ্টা, এবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ উগ্র মতাদর্শীরা

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২৪ সময় দর্শন

স্বপ্ন প্রতিদিন রিপোর্ট

আসন্ন পহেলা বৈশাখ উদযাপনের অন্যতম আয়োজন বাঙালির অসাম্প্রদায়িক উৎসব মঙ্গল শোভাযাত্রা বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে। গতকাল সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী এই রিট আবেদন করেন।

রিটে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন, প্রচারণা, অনুমতি প্রদান এবং এতে সরকারি অর্থায়ন বন্ধের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। উক্ত আইনীজীবী হাইকোর্ট এলাকায় একজন সাম্প্রদায়িক ও উগ্র ধর্মান্ধ হিসেবে পরিচিত বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ আইনজীবীরা। রিট আবেদনে বলা হয়েছে, মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুভূতি রক্ষার জন্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বন্ধ করা প্রয়োজন। এ ঘটনায় সংস্কৃতি সচিব, ধর্ম সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, ঢাকা জেলা প্রশাসক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং চারুকলা অনুষদের ডিনকে বিবাদী করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেকের মতে, পহেলা বৈশাখ বাঙালির সর্বজনীন ও অসাম্প্রদায়িক উৎসব। মঙ্গল শোভাযাত্রা সেই উৎসবেরই একটি সাংস্কৃতিক অংশ, যা জাতিগত ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি এবং মানবিক মূল্যবোধকে তুলে ধরে। এই আয়োজনকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিতর্কিত করার চেষ্টা আসলে বাঙালির অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি অপচেষ্টা বলে মনে করছেন তারা।

রিটে দাবি করা হয়েছে, মঙ্গল শোভাযাত্রা কোনো প্রাচীন ঐতিহ্য নয় এবং এতে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রতীক ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে। তবে সাংস্কৃতিক কর্মীদের মতে, শোভাযাত্রায় ব্যবহৃত প্রতীকগুলো মূলত লোকজ শিল্প, প্রকৃতি, প্রাণী ও গ্রামীণ জীবনের প্রতীক, যার সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় আচার বা বিশ্বাসের সম্পর্ক নেই। এ ঘটনার প্রতিবাদে উদীচীসহ বিভিন্ন প্রগতিশীল রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিবাদ করেছে।

প্রতিবাদকারীরা জানান, বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠান বরাবরই সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের অংশগ্রহণে উদযাপিত হয়ে আসছে। এই উৎসবকে সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণে দেখার প্রবণতা সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে। তারা মনে করেন, একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে বাঙালির অসাম্প্রদায়িক উৎসব ও সংস্কৃতিকে সাম্প্রদায়িক বিতর্কে জড়িয়ে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করছে।

এদিকে রিটের বিষয়ে শিগগিরই হাইকোর্টে শুনানি হতে পারে বলে জানা গেছে। পহেলা বৈশাখ উদযাপনের অন্যতম অনুষঙ্গ ছিল মঙ্গল শোভাযাত্রা। ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামে খ্যাতি পেলেও সাড়ে তিন দশক আগে ১৯৮৯ সালে যাত্রা শুরুর সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের আয়োজনটির নাম ছিল ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’। পরের বছর থেকে এটি মঙ্গল শোভাযাত্রা নামে পরিচিত হয়। ২০১৬ সালে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা অন পহেলা বৈশাখ’ শিরোনামে অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে এই শোভাযাত্রাটি ইউনেস্কোর তালিকাভুক্ত হয়। ইউনেস্কোর স্বীকৃতির পর মঙ্গল শোভাযাত্রা নতুন মাত্রা পায়।

গত বছরের ১১ এপ্রিল শোভাযাত্রাটির আয়োজন নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ সম্মেলনে এর নাম পরিবর্তন করে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’ করার সিদ্ধান্ত জানায়। শুরু থেকেই বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
২০২5© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host