স্থানীয় সংবাদদাতা
কক্সবাজারের উখিয়ায় নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১২ ঘণ্টা পর একটি খাল থেকে এক স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করছেন, ‘অদৃশ্য শক্তির ডাকে’ ওই কিশোর খালে পড়ে যায়।
আজ ৬ই মার্চ, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে উখিয়ার রেজুরকুল এলাকার রেজুখাল থেকে কৌশিক বড়ুয়া বাঁধন (১৩) নামের ওই স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে স্থানীয় বাসিন্দা পতন বড়ুয়ার ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে বাঁধনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও সন্ধান না মেলায় তার বাবা পতন বড়ুয়া উখিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছেলের নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
রাত ১০টার দিকে বাঁধনের এক বন্ধু পরিবারের সদস্যদের জানায়, সন্ধ্যার দিকে তারা রেজুখালের মোহনায় একটি বড়ই গাছের নিচে ছিল। সেখানে গাছ থেকে বড়ই পেড়ে খাওয়ার সময় বাঁধন হঠাৎ খালে পড়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা দীপক বড়ুয়ার দাবি, ওই বন্ধুর ভাষ্যমতে কথিত ‘অদৃশ্য শক্তি’র ডাকে বাঁধন খালে পড়ে যায়। তবে ভয়ে সে বিষয়টি তখন কাউকে জানায়নি।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতেই খালসংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় লোকজন জড়ো হন। নিখোঁজ কিশোরকে খুঁজতে তারা বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালান। পাশাপাশি পাশের একটি বৌদ্ধ বিহারের ভিক্ষু ও স্থানীয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী প্রার্থনা ও ত্রিপিটক থেকে মন্ত্র পাঠ করেন।
আজ ভোরের দিকে খালের পানিতে বাঁধনের মরদেহের একটি অংশ ভাসতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয় এক স্কুলশিক্ষক বলেন, দুর্ঘটনাবশত কিংবা অন্য কোনো কারণে বাঁধন খালে পড়ে মারা যেতে পারে। তবে ঘটনাটিকে ঘিরে এলাকায় কুসংস্কার ছড়ানো হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে এমন ঘটনাকে কেউ কেউ ‘ঢালি নেওয়া’ বলে থাকলেও এর বাস্তব কোনো প্রমাণ নেই।
বিষয়টি পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
এদিকে প্রথম সন্তানকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন বাঁধনের বাবা পতন বড়ুয়া ও মা শিখা বড়ুয়া। সন্তানের শোকে কাতর হয়ে মা শিখা বড়ুয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি কিছুই চাই না, আমার বাঁধনকে ছাড়া। আমার বাঁধনকে এনে দাও।”
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ কাজ করছে। কীভাবে কিশোরটির মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






