জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের দাবিকে সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এ ধরনের কোনো বিদেশি চুক্তি নিয়ে দলের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা সম্মতি চাওয়া হয়নি। শুক্রবার (৬ মার্চ ২০২৬) দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান এ অবস্থান স্পষ্ট করেন। পোস্টে তিনি লেখেন, “বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সরকার কয়েকটি চুক্তি সম্পাদন করেছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এ ধরনের কোনো চুক্তি নিয়ে সরকার আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি।” এর আগে বুধবার (৪ মার্চ) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করার আগে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে এবং উভয় দল থেকে সম্মতি পাওয়া গিয়েছে। তিনি বলেন, “ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ আমাদের প্রধান দুটি দলের প্রধানের সঙ্গে নির্বাচনের আগেই কথা বলেছেন এবং তারাও এতে সম্মতি দিয়েছিল।” পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, চুক্তিটি নির্বাচনের তিন দিন আগে স্বাক্ষরিত হলেও এটি চট করে করা হয়নি এবং দেশের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়।
এ চুক্তি নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের (প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন) শেষ দিকে, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ স্বাক্ষরের পর। থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)সহ বিভিন্ন মহল এটিকে “অত্যন্ত বৈষম্যমূলক” এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি বলে সমালোচনা করেছে। চুক্তিতে মার্কিন পণ্য কেনার বাধ্যবাধকতা, তৃতীয় দেশের (বিশেষ করে নন-মার্কেট ইকোনমি হিসেবে চীন) সঙ্গে বাণিজ্য সীমিতকরণের মতো ধারা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে, বিরোধী মহল থেকে দাবি উঠেছে যে, চুক্তিটি গোপনে করা হয়েছে এবং কোনো রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী বা অর্থনীতিবিদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই এনডিএ (Non-Disclosure Agreement) এর আওতায় সম্পাদিত হয়েছে। বিএনপি এখনও এ বিষয়ে তাদের সুস্পষ্ট অবস্থান জানায়নি। চুক্তির বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।






