দেশজুড়ে গ্যাস লিকেজ, সিলিন্ডার ও বয়লার বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে। শুধু রাজধানীর জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে গত দুই মাসে চিকিৎসা নিয়েছে দুই হাজার ৭০০ রোগী। যাদের বড় অংশই দগ্ধ হন রান্না ঘর থেকে। চিকিৎসকেরা জানান, বিস্ফোরণে শ্বাসনালী পুড়ে যাওয়ায় অর্ধেকের বেশি রোগীকে বাঁচানো যায় না। তাই এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।
চট্টগ্রামের হালিশহরে ২৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ হয় একই পরিবারের নয় সদস্য। একই দিন ভোর রাতে ঢাকার রায়ের বাজারে গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে চারজন, পরের দিন কুমিল্লার দাউদকান্দিতে সিলিণ্ডার বিস্ফোরণে আরও চারজন দগ্ধ হয়।
জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের তথ্য বলছে, সারাদেশ থেকে প্রতিদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে ৮০ থেকে ৯০ রোগী। ২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি শুধু গ্যাস দুর্ঘটনায় দগ্ধ হয়েছে ২১ জন।
কী কারণে এমন দুর্ঘটনা ঘটছে তার সঠিক কারণ অজানাই থাকছে। তাই গ্যাসে রান্নার সময় সকলকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা.শাওন বিন রহমান বলেন, রান্নাঘরে চুলা জ্বালানোর ১০ থেকে ১৫ মিনিট আগে যদি জানালা খুলে রাখা যায়। তাহলে গ্যাস যদি রান্নাঘরে থেকেও থাকে তা বের হয়ে যাবে। এ ছাড়া চুলার যে স্ক্রুগুলো থাকে প্রতি বছর বা প্রতি ছয় মাসে চেক করা বা পরিবর্তন করা জরুরি।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন বলেন, বাড়িতে আগুন ধরলে বৈদ্যুতিক যে মেইন সুইচ সেটি সবার প্রথমে বন্ধ করে দিতে হবে। কোনো হেজিটেশন ছাড়া পরিবারের যে কোনো একজনকে এ কাজটি করতে হবে। অগ্নিদগ্ধদের বাঁচানোর ক্ষেত্রে মাথায় রাখতে হবে যেন ভেজা কাপড় পরে নেওয়া হয়, আগুন যেন উদ্ধারকারীর গায়ে না লাগে।
চিকিৎসকেরা বলছেন, গ্যাস সিলিন্ডার, লিকেজ বা রাসায়নিক বিস্ফোরণে আক্রান্তদের শ্বাসনালী বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই এসব দগ্ধ রোগীর ৫০ ভাগকে বাঁচানো যায় না।






