গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পূর্ব এলাকায় বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট, রাসায়নিক উপাদান ও প্রস্তুত সরঞ্জামসহ তৌহিদুজ্জামান ওরফে শিমুল (৩২) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। অভিযানে মোট ৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়, যার ওজন প্রায় ৪৩৯ গ্রাম বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
গতকাল দিবাগত রাতে টঙ্গী পূর্ব থানার গাজীপুরা কাজীবাড়ী পুকুরপাড় সংলগ্ন কাজী খলিলুল্লাহ রোডের একটি ভাড়া বাসায় এ অভিযান চালানো হয়। মিয়ানমার থেকে ইয়াবা আনতে গিয়ে অনেক টাকা বাইরে চলে যাচ্ছে, তাই দেশের টাকা দেশে রাখার জন্যই উদ্যোক্তা হয়েছিলেন শিমুল, এমনটাই তিনি তার পরিচিতদের বলতেন। জানান গ্রেপ্তার শিমুলের এক প্রতিবেশী।
ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয় সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে টঙ্গী পূর্ব এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অবৈধভাবে ইয়াবা মজুদ ও প্রস্তুতের কার্যক্রম চলছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে বিভাগীয় স্টাফ পরিদর্শক মো. মাহাবুর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ রেইডিং টিম গঠন করা হয়। রাত ১২টার দিকে দলটি সরকারি গাড়িতে করে অভিযানে বের হয়ে সন্দেহভাজন বাসাটি ঘিরে ফেলে।
পরে স্থানীয় দুই সাক্ষীকে সঙ্গে নিয়ে অভিযানকারী দল বাসার একটি কক্ষে প্রবেশ করে। সেখানে তারা তৌহিদুজ্জামানকে শয়নকক্ষের দক্ষিণ পাশে একটি টেবিলের সামনে বসা অবস্থায় দেখতে পান। টেবিলের ওপর জিপারযুক্ত পলিপ্যাকেটে রাখা ইয়াবা ট্যাবলেট ও বিভিন্ন সরঞ্জাম দেখতে পেয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
একপর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন যে তার কাছে ইয়াবা রয়েছে এবং টেবিলে থাকা উপকরণগুলো ইয়াবা প্রস্তুতের কাজে ব্যবহৃত হয়।
সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তার দেহ তল্লাশি করে প্যান্টের ডান পকেট থেকে দুটি সাদা জিপারযুক্ত প্যাকেটে রাখা ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে শয়নকক্ষ তল্লাশি করে টেবিলের ওপর রাখা ২২টি জিপারযুক্ত প্যাকেট পাওয়া যায়, প্রতিটিতে ২০০ পিস করে ইয়াবা ছিল। এসব প্যাকেট থেকে উদ্ধার হয় ৪ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা। দেহ থেকে উদ্ধার ১০০ পিসসহ মোট জব্দকৃত ইয়াবার পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ হাজার ৫০০ পিস।
অভিযানে ইয়াবার পাশাপাশি একটি মেটাল ডাইস, স্টেইনলেস স্টিল ফানেল, মেটাল ছাঁচ, ২০০ গ্রাম ক্যাফেইন পাউডার, দুটি টিনে মোট ৫০০ গ্রাম ডেমিলা ফ্লেভার, তিনটি চামচ ও একটি কাঁচি উদ্ধার করা হয়।
কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এসব সরঞ্জাম ইয়াবা প্রস্তুত ও প্যাকেটজাতকরণে ব্যবহৃত হয়।
অভিযানের খবর পেয়ে ডিএনসির উপপরিচালক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। কেন্দ্রীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগারের ল্যাব সহকারীরাও এসে ডিজিটাল পরীক্ষার মাধ্যমে উদ্ধার করা ট্যাবলেটগুলো প্রাথমিকভাবে অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা বলে নিশ্চিত করেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তি জানিয়েছেন, এ ঘটনায় আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে। সম্ভাব্য সহযোগীদের শনাক্তে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসান জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অবৈধ ইয়াবা নিজের হেফাজতে সংরক্ষণ করছিলেন।






