ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, পরিত্যক্ত ওষুধ উদ্ধার; স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তদন্তে মনোযোগ
কোয়াসিম সিদ্দিকী জনী
বিশেষ প্রতিনিধি, দিনাজপুর:
দিনাজপুর জেলায় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে গুরুতর অনিয়মের ঘটনা ধরা পড়েছে। সিভিল সার্জনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে ভুয়া যক্ষ্মারোগী তৈরি করা হয়েছে এবং কফের নমুনা জালিয়াতি করা হয়েছে। ওষুধ বিতরণেও অনিয়ম লক্ষ্য করা গেছে।
গত ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো প্রতিবেদনে দিনাজপুর জেলার সিভিল সার্জন মো. আসিফ ফেরদৌস জানিয়েছেন, একাধিক এলাকায় যক্ষ্মা শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা কার্যক্রমে অস্বচ্ছতা রয়েছে।
১ ডিসেম্বর দিনাজপুর শহরের ব্র্যাক যক্ষ্মানির্ণয় কেন্দ্রে ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান পরিচালিত হয়। ওই অভিযানে জেলা ব্যবস্থাপক মো. রেজাউল কবিরকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানের সময় উদ্ধার করা হয়েছে পরিত্যক্ত ওষুধ, ওষুধের পাত্র, এবং অন্যান্য নথিপত্র।
সিভিল সার্জনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব মানুষের যক্ষ্মা নেই, তাদেরকে যক্ষ্মারোগী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এমনকি রোগীর কফ সুস্থ মানুষের সঙ্গে মিশিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে। ফলে, সুস্থ মানুষকে যক্ষ্মার ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে। সিভিল সার্জন মো. আসিফ ফেরদৌস বলেন, “এটি অপরাধ। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। রোগীর সংখ্যা বাড়ানোর জন্য এই ধরনের জালিয়াতি করা হচ্ছে।”
ব্র্যাকের ঊর্ধ্বতন পরিচালক আকরামুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, “দিনাজপুরের যক্ষ্মানির্ণয় কেন্দ্রের ঘটনা আমাদের জানা আছে। বিষয়টি তদন্তাধীন। যেকোনো অনিয়ম ধরা পড়লে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কর্মীদের নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষায় কিছু এলাকায় কার্যক্রম সাময়িকভাবে সীমিত করা হয়েছে, তবে প্রয়োজনীয় সেবা অব্যাহত রয়েছে।”
এক ল্যাব টেকনিশিয়ান, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, জানান, রংপুরে অনুরূপ অনিয়ম লক্ষ্য করা যায়। রোগীর চিকিসা শেষ না হতেই পুনরায় নতুন রোগী হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করা হয়। অনেক সময় রোগী নিজে ফলোআপ না করলেও মাঠপর্যায়ের কর্মীরা নিজের মতো করে নমুনা সংগ্রহ ও রেজিস্ট্রারিতে লিপিবদ্ধ করেন। এর ফলে, রোগী সঠিকভাবে ওষুধ সেবন করে না।
সিভিল সার্জনের প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, এই ধরনের অনিয়ম শুধুমাত্র তথ্য ও পরিসংখ্যান বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট এনজিওগুলো এই বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখছে।