দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘসময় চিকিৎসা বিহীন অবস্থায় থাকার কারনে হুমায়ুন কবির নামে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর ১টায় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কবিরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার পরিবর্তে কর্তব্যরত উপসহকারী মেডিকেল অফিসার মাহফুজুর রহমান তাকে পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি করেন স্বজনদের অভিযোগ, পুরুষ ওয়ার্ডে নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো চিকিৎসক বা নার্স রোগীর খোঁজ নেননি। এ সময় রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি করতে থাকে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীকে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়ার আগেই রোগীর মৃত্যু হয়।
নিহত হুমায়ুন কবির উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামের মৃত আশরাফ আলীর ছেলে। তিনি পেশায় ছিলেন একজন গরু ব্যবসায়ী। নিহতের ছোট ভাই জানান, রোগীর অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন ছিল। তারপরও বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সঙ্গে কথা না বলে তাকে সাধারণ ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে উপসহকারী মেডিকেল অফিসার মাহফুজুর রহমান বলেন, “সবকিছু ঠিক মনে হওয়ায় রোগীকে ভর্তি করানো হয়। তবে ওয়ার্ডে নেওয়ার পর চিকিৎসা চিকিৎসার অভাবে তার মৃত্যু হয়েছে বিষয়টি সঠিক নয়। জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা মেডিকেল অফিসার ডা. প্রিয়ম তালুকদার বলেন, “ রোগীকে এখানে ভর্তি করার সুযোগ ছিল না। সরাসরি উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করাই সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত বুকের ব্যথার রোগীদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি করার কোনো সুযোগ নেই। রোগীর স্বজনরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে খানসামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বাছেত জানান, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।