দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ১০নং হরিরামপুর ইউনিয়নের নিভৃত পল্লী পাঁচ পুকুর গ্রামের জনজীবন যখন হাড়কাঁপানো শীত আর হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত, তখন সেই পিছিয়ে পড়া আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মুখে হাসি ফুটিয়েছে অরাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্বপ্নতরী’।
রংপুরের বদরগঞ্জের এই সংগঠনটি উক্ত এলাকায় শীতবস্ত্র বিতরণ করে। স্বপ্নতরীর আহ্বায়ক মোঃ শাহ্জাদা আহসান হাবিব ও সংগঠনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আহসান হাবিব গণমাধ্যমকে জানান, তাদের মূল লক্ষ্য কেবল সাময়িক সহায়তা নয়, বরং সমাজের ছিন্নমূল ও অতিদরিদ্র পরিবারের স্থায়ী আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনা।
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই না কোনো অভাবের কারণে কোনো মেধাবী প্রাণ অকালে ঝরে পড়ুক। পিছিয়ে পড়া সন্তানদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে আমরা ‘অ্যাম্বিশন পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ’ এর মাধ্যমে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।”
শুধু শীতবস্ত্র নয়, অনুসন্ধানে জানা গেছে, স্বপ্নতরী কেবল মৌসুমি কোনো সংগঠন নয়। তারা সারা বছর ধরে ছিন্নমূল পথশিশুদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে লেখাপড়ার দায়িত্ব পালন করে এবং অসহায় রোগীদের জন্য জরুরি চিকিৎসা সেবা ও ওষুধের ব্যবস্থা করে।
সামাজিক উন্নয়নমূলক নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অবহেলিত জনপদকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখছে।
পাঁচ পুকুর গ্রামের আদিবাসী পাড়ার বাসিন্দারা জানান, হাড়কাঁপানো শীতে তারা যখন খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছিলেন, তখন স্বপ্নতরীর এই সহায়তা তাদের কাছে আশীর্বাদের মতো এসেছে। বিশেষ করে শিশুদের শিক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণায় উচ্ছ্বসিত পুরো গ্রাম।
সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে বদরগঞ্জের এই ‘স্বপ্নতরী’।