স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও পূর্বশত্রুতার জেরে মোহাম্মদ শামীম (৩৫) নামে আত্মগোপনে থাকা এক আওয়ামী লীগ নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে বিএনপি-জামায়াতের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী।
পুলিশের দাবি, এটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নয়।
গতকাল ৮ই এপ্রিল, বুধবার রাতে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের মধ্য ভাটেরখিল এলাকায় এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটে।
এ ঘটনায় ‘অজ্ঞাত পরিচয়’ দুই ব্যক্তিকে আটকের খবর মিলেছে, যদিও তাদের কোনো নাম-পরিচয় এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।
শামীমকে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে কুপিয়ে ও পায়ের রগ কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে ফেলে রেখে যায় হামলাকারীরা।
নিহত মোহাম্মদ শামীম সীতাকুণ্ড পৌরসভার শিবপুর এলাকার আবুল মনসুরের ছেলে এবং স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ২০২৪-এর ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই তিনি জীবন রক্ষার্থে আত্মগোপনে ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, চরম আর্থিক অনটনের মধ্যে থাকা শামীমের স্ত্রী কিছু স্বর্ণালঙ্কার বন্ধক রেখে টাকা জোগাড় করেছিলেন। সেই টাকা সংগ্রহ এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করতে বুধবার সন্ধ্যায় মুরাদপুর ইউনিয়নে শ্বশুরবাড়িতে যান শামীম।
রাত আনুমানিক ৮টার দিকে স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতের ৩০-৪০ জন নেতাকর্মী মিলে ওই বাড়িতে অতর্কিত হানা দেয়। তারা শামীমকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে নিকটস্থ বেড়িবাঁধ তালতলা এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে এবং পায়ের রগ কেটে দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।
নিহতের ভাই মো. সেলিম বলেন, “আমার ভাই অভাবের কারণে খুব কষ্টে দিন পার করছিলেন। স্থানীয় জাফর ও ইরানের নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে তাকে তুলে নিয়ে হত্যা করেছে। আমরা এই নৃশংসতার বিচার চাই।”
হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরেও প্রায় ৩ ঘন্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সীতাকুণ্ড মডেল থানা পুলিশ। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে দুইজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে আটককৃতদের নাম এখনই প্রকাশ করছে না পুলিশ। এই ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহিনুল ইসলাম জানান, অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।






