স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক
ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ), ৯ এপ্রিল: জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র দুই মাস আগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দখল, প্রভাব বিস্তার ও ভাগবাটোয়ারা নিয়ে সংঘর্ষ চরম আকার ধারণ করেছে। তারই একটি বড় উদাহরণ ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় ঘটে গেল। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের কাহালগাঁও বাজারে সিপি বাংলাদেশ কোম্পানির মুরগির বিষ্ঠার ভাগ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় ককটেল নিক্ষেপ, গুলিবর্ষণ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে কাহালগাঁও বাজারের পাশে সিপি বাংলাদেশ কোম্পানি লেয়ার মুরগি পালন করে আসছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা এই কোম্পানির মুরগির বিষ্ঠা বিনামূল্যে নিয়ে বিক্রি করতেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপি নেতাকর্মীরা এই বিষ্ঠা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে মুরগির বিষ্ঠা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির সঙ্গে জামায়াত নেতাকর্মীদের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এই দ্বন্দ্বের জের ধরে মঙ্গলবার রাতে দুটি বাস, একটি মাহিন্দ্রা, সিএনজিসহ প্রায় দুই শতাধিক জামায়াত নেতাকর্মী কোম্পানিতে ঢুকে ম্যানেজারের সঙ্গে অসদাচরণ করেন এবং দুই ট্রাক মুরগির বিষ্ঠা জোরপূর্বক নিয়ে যান।
একই সময়ে কাহালগাঁও বাজারে দেশীয় অস্ত্র, ককটেল ও গুলি নিক্ষেপ করে হামলা চালানো হয়। অভিযোগ উঠেছে, বাজারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকের তালা ভেঙে ৫ লাখ টাকা লুট, শ্রমিক দল নেতা কাইয়ুম তালুকদারের প্রাইভেটকার ভাঙচুর, ১১টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং ৫টি মোটরসাইকেল লুটের ঘটনা ঘটেছে।
ব্যাংক এশিয়া এজেন্ট ব্যাংকের ম্যানেজার মো. শামীম হক বলেন, “বিকেল ৪টায় তালা বন্ধ করে চলে যাই। রাত ১১টার দিকে জামায়াতের অন্তত ২০০ নেতাকর্মী হামলা চালিয়ে তালা ভেঙে ৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।”
গাজী কোম্পানির এক্সিকিউটিভ সুজন মিয়া ও বাজার ইজারাদার আমিমুল ইসলামসহ অনেকে জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করেছেন।
কোম্পানির ম্যানেজার সাদিকুর রহমান বলেন, “আমরা বিষ্ঠা বিনামূল্যেই দিয়ে থাকি। আওয়ামী লীগ আমলে তাদের লোকজন নিত, পরে বিএনপি নিয়ন্ত্রণ নেয়। নির্বাচনের পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে এ নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে।”
এ ঘটনায় সিসি ক্যামেরায় হামলার ভিডিও ধরা পড়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, স্থানীয় নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে স্থানীয় সম্পদ ও প্রভাব বিস্তারের লড়াই তীব্র হচ্ছে। মুরগির বিষ্ঠার মতো সাধারণ বিষয় নিয়েও সশস্ত্র সংঘর্ষ এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হচ্ছে।
পুলিশ এ ঘটনায় জামায়াতের কয়েকজন কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গেছে। তবে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আগে এ ধরনের সংঘর্ষ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে, যা সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তুলছে।






