স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক
ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাকশ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে নৃশংসভাবে হত্যা ও মরদেহ পোড়ানোর ঘটনায় মূল হোতা ও লাশে আগুন দেওয়ার নেতৃত্বদানকারী ইমাম ইয়াছিন আরাফাতকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গতকাল বিকেলে ঢাকার ডেমরা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। তিনি গত প্রায় ১৮ মাস যাবত ভালুকার কাশর এলাকায় শেখবাড়ী মসজিদে ইমামতি এবং মদিনা তাহফিজুল কুরআন মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করে আসছিলেন। মাদ্রাসায় শিক্ষকতা এবং মসজিদে ইমামতি করা ইয়াছিনের এমন উগ্রপন্থি মনোভাব তার ধর্মীয় প্রভাবের ইঙ্গিত দেয় এবং এ ধরনের উগ্র কর্মকাণ্ডে ইসলামী চরমপন্থার সমার্থক হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত ১৮ই ডিসেম্বর রাতে ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ তুলে পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস কারখানার শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে (২৮) গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে, ধর্ম অবমাননার অভিযোগের কোনো ভিত্তি ছিল না। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৯ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে, ইয়াছিন আরাফাত ঘটনার দিন কারখানার গেটে উত্তেজনা সৃষ্টি এবং হত্যার পর মরদেহে আগুন দেওয়ার নির্দেশদানে সরাসরি নেতৃত্ব দেন। দীপু হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টির পর গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
১২ দিন পলাতক অবস্থায় ঢাকার ডেমরা থানাধীন সারুলিয়া এলাকায় বিভিন্ন মাদ্রাসায় অবস্থান করেন। আত্মগোপনের অংশ হিসেবে তিনি সুফফা নামের একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতার জন্য যোগদান করেছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়।
তার এই ভূমিকা ইসলামী উগ্রবাদী মানসিকতার প্রতিফলন হিসেবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
দীপু দাস হত্যাকাণ্ডে ধর্মীয় নেতার সরাসরি জড়িত থাকা এবং মিথ্যা অভিযোগে নৃশংস হত্যা ইসলামিস্ট গোষ্ঠীগুলোর উগ্র মানসিকতার প্রমাণ। এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তাহীনতা বাড়াচ্ছে এবং সমাজে চরমপন্থী প্রভাবের বিস্তারের আশঙ্কা সৃষ্টি করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় সনাতন ধর্মাবলম্বী উপরে নিয়মিত আক্রমন হচ্ছে, এবং এই প্রতিটা ঘটনায় নেতৃত্ব দিয়েছে ইসলামী উগ্রবাদীরা।
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত বিচার দাবি করেছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, এ ধরনের উগ্রবাদী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ না করলে দেশে আরও বড় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।






