স্থানীয় সংবাদদাতা
সিরাজগঞ্জে প্রকাশ্য দিবালোকে এক কলেজ শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম আব্দুর রহমান রিয়াদ। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়। ঘটনার পর পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে। অন্যদেরও আটকের জন্য অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গতকাল ২৮শে ডিসেম্বর, রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শহরের চৌরাস্তা মোড়ের বাহিরগোলা রোডে একটি সিএনজি অটোরিকশার ভেতরে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, সিএনজিতে বসে থাকা অবস্থায় কয়েকজন যুবক হঠাৎ বিভিন্ন দিক থেকে এসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিয়াদের ওপর আক্রমণ করে। গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শহিদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত রিয়াদ শহরের সয়াধানগড়া খাঁপাড়া মহল্লার বাসিন্দা রেজাউল করিমের ছেলে এবং ইসলামিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। ভাইরাল সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অল্প সময়ের মধ্যেই হামলাকারীরা তাকে কুপিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনার আকস্মিকতায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও রিয়াদের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, নিহত রিয়াদ এবং হত্যাকারীরা সবাই এলাকার চিহ্নিত কিশোর গ্যাং সদস্য। নিজেদের মাঝে দ্বন্দ্বে এই হত্যার ঘটনা ঘটেছে। তারা নিজেদের জুলাইযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে গত বছরের ৫ই আগস্টের পর থেকে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছিল।
নিহতের বাবা রেজাউল করিম জানান, তার ছেলে নিয়মিত প্রাইভেট পড়তে যেত। মাগরিবের পর তিনি ফোনে জানতে পারেন রিয়াদ অসুস্থ এবং দ্রুত হাসপাতালে যেতে বলা হয়। সেখানে গিয়ে তিনি ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে তিনি আরও
বলেন, আর কোনো বাবার বুক যেন এভাবে শূন্য না হয়।
পুলিশ জানায়, হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এলাকা-ভিত্তিক পূর্ব বিরোধ বা শত্রুতার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।
সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ইতোমধ্যে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলেও তিনি জানান। মরদেহ হস্তান্তরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।