1. admin@shwapnoprotidin.com : admin : ddn newsbd
মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ফিল্মকে পাপ বলা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন অভিনেত্রী পপি বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় ভেঙে গেল বাদশাহ ও ইশার সংসার সালমান শাহকে নিয়ে লেখা বইটি কেন প্রকাশের পরপরই নিষিদ্ধ হয়েছিল? দীর্ঘ অচলাবস্থার পর উত্তর কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের সংলাপ শুরুর সম্ভাবনা প্রযুক্তির শক্তিতে সড়ক নিরাপত্তায় নতুন যুগের সূচনা এআই ক্যামেরার কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে চাকরির সুযোগ শেখ সেলিমের পরিবারের চার সদস্যের সম্পদ বিবরণী চাইল দুদক ৭ কোটি টাকার জমি ৫০ লাখে হাতছাড়া! দুর্দান্ত ওপেনিংয়ের পর হঠাৎ আয়ে ধস, বক্স অফিসে বিপাকে ‘টক্সিক’ তীব্র দাবদাহে স্পেনে ৫ হাজারের বেশি মৃত্যু, ছাড়িয়ে গেছে আগের সব রেকর্ড

প্রযুক্তির শক্তিতে সড়ক নিরাপত্তায় নতুন যুগের সূচনা এআই ক্যামেরার

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ০ সময় দর্শন

স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক »

রাজধানীর সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন ও যানজট কমাতে দ্রুত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-এআই ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকা শহরের যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সাতটি নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। তা কার্যকর শুরুও হয়েছে।

আগে ঢাকার সড়কের লাল বাতি আর সবুজ বাতি জ্বলার তেমন গুরুত্ব বা তফাৎ ছিল না। এখন ক্যামেরার নজরদারির কারণে অনেক চালক থামছেন নির্ধারিত স্থানে। এআই ক্যামেরা স্থাপন করা মোড়গুলোতে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদেরও আগের তুলনায় বেশি নিয়ম মানার অভ্যস্তত লক্ষনীয়। প্রতিটি মোড়ে সারাক্ষণ ট্রাফিক পুলিশ সদস্য দাঁড়িয়ে থেকে চালককে থামিয়ে আইন মানাতে হচ্ছে না।

এখন মূলত ক্যামেরা, সফটওয়্যার ও কেন্দ্রীয় নজরদারি ব্যবস্থার সমন্বয়ে আইন লঙ্ঘনের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সিগন্যালগুলোকে আধুনিক ও কার্যকর করতে হলে চালকদের সিগনাল মানার প্রবণতা গুরুত্বপূর্ণ। চালকরা সিগন্যাল না মানলে কোনো উন্নত প্রযুক্তিই কার্যকর হবে না। সিগন্যাল অমান্য, স্টপ লাইন ভায়োলেশন, বিপরীত দিক থেকে গাড়ি চালানোর অপরাধে গাড়ি থামিয়ে মামলা দেওয়ার প্রচলিত পদ্ধতিতে সমস্যা দেখা হয়। এতে সড়কে যানজট হয়, একটি গাড়ি থামালে পেছনের গাড়িগুলোও আটকে পড়ে।

যানজট কমানো এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এআই ক্যামেরা ব্যবহারে সুফল মিলতে থাকায় ড্রোনে নজরদারির চিন্তাটিও গতিময়তা পাচ্ছে। ড্রোনের সঙ্গে অটোমেটিক নম্বর প্লেট রিকগনিশন-এএনপিআর প্রযুক্তি যুক্ত করা হবে। প্রযুক্তিটি চালু হলে সহজ হবে ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে মামলা বা পদক্ষেপ নেওয়া।

রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক, ফ্লাইওভার ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে হঠাৎ যানজট দেখা দিলে অনেক সময় এর কারণ দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। ড্রোন ব্যবহার করা গেলে ঘটনাস্থলের রিয়েল টাইম তথ্য মিলবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।

ড্রোনে শব্দ বা ভয়েস বার্তা দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হবে। কোনো যানবাহন রাস্তা আটকে যানজট সৃষ্টি করলে আকাশ থেকে চালককে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া সম্ভব হবে। মূলত মামলা বাড়ানো নয়, চালকদের ট্রাফিক আইন মানতে উৎসাহিত করাই প্রযুক্তি ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য।

এরইমধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান পরীক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য ডিএমপিকে একটি ড্রোন দিয়েছে। সেটি নিয়ে বর্তমানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। ড্রোন পরিচালনার জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণও শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে তেজগাঁও বিভাগের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এরইমধ্যে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে ডিএমপি। শাহবাগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকায় মোট ১৫টি ট্রাফিক সিগন্যাল এআই প্রযুক্তির আওতায় আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে চালকদের সিগন্যাল মেনে চলার একটি চর্চা বা অভ্যস্ততা লক্ষনীয়।

এআই ক্যামেরা চালুর পর সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে ট্রাফিক সিগন্যালে। ব্যাপক না হলেও বেশ পালটে গেছে রাজধানী ঢাকার চিরচেনা সিগন্যাল ব্যবস্থাপনার চিত্র। যানবাহনের সিগন্যাল অমান্য করার যে চিরচেনা দৃশ্য দেখা যেত বিভিন্ন স্পটে এআই ক্যামেরা বসানোয় সিগন্যাল অমান্য করার সেই প্রবণতা কমে গেছে। চালকরা মামলার ভয়ে সিগন্যাল মানতে বাধ্য হচ্ছেন। ডিএমপি জানিয়েছে, ড্রোন ব্যবস্থাটিও পরীক্ষার পর এর কার্যকারিতা ও সম্ভাব্য সমস্যাগুলো মূল্যায়ন করা হবে। প্রযুক্তিটি কার্যকর ও নিরাপদ প্রমাণিত হলে পর্যায়ক্রমে রাজধানীসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে এর ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এরইমধ্যে এআই ক্যামেরার নজরদারির কারণে মহাসড়কে চাঁদাবাজি কমে আসবে বলে আশাবাদী অনেকে।

মহাসড়কে যে চাঁদাবাজি হয়, সেটা মালিকপক্ষ থেকে হোক, শ্রমিক ফেডারেশনের পক্ষ থেকে হোক অথবা পুলিশের পক্ষ থেকে হোক—সবকিছু ক্যামেরায় রেকর্ডেড থাকবে। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মেঘনাঘাট এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিনের  কণ্ঠেও শোনা গেছে এ আশাবাদ। মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হাইওয়ে পুলিশ এ পদক্ষেপকে যুগান্তকারী বলেছেন তিনি।

জানিয়েছেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৪৯০টি পিলারে স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা ও এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা বসানো হয়েছে। নির্ধারিত গতিসীমা লঙ্ঘন, ট্রাফিক আইন ভঙ্গ, উলটো পথে চলাচল, ওভারটেকিং ও সাইন-সিগন্যাল অমান্য করার মতো অপরাধ ক্যামেরার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত হবে। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা আরোপ করে সেই তথ্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কাছে পাঠানো হবে। গাড়ির মালিকের মুঠোফোনে এসএমএসের মাধ্যমে জরিমানার তথ্য জানানো হবে। নির্ধারিত মুঠোফোন আর্থিক সেবার মাধ্যমে জরিমানা পরিশোধের সুযোগ থাকবে।

তিনবার জরিমানা হলে গাড়ির নিবন্ধন বাতিল হবে কি না, তা বিআরটিএর আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হবে। আর বর্তমানের হালখাতায় দেখা যাচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালুর প্রথম ১০ দিনে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় মামলা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। প্রাথমিক তথ্য বলছে, ১৮ আগস্ট হাইওয়ে পুলিশের এআই ক্যামেরার নজরদারি ব্যবস্থা চালুর প্রথম দিনে স্বয়ংক্রিয় মামলা হয় ৪৪৬টি। পরদিনই নেমে আসে ৪২-এ। দশম দিনে মামলা হয়েছে মাত্র ৩৪টি। সেই হিসাবে ১০ দিনের ব্যবধানে ৯২ দশমিক ৩৩ শতাংশ মামলা কমেছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে শৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনা রোধে হাইওয়ে পুলিশের এআই ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগকে চালকরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হাইওয়ে পুলিশের গাজীপুর ও কুমিল্লা অঞ্চলের আওতায়। ঢাকার সাইনবোর্ড থেকে নারায়ণগঞ্জের অংশ গাজীপুর অঞ্চল এবং কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত মহাসড়ক কুমিল্লা অঞ্চল। ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী, মহাসড়কে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার গতিতে গাড়ি চালানোর সুযোগ রয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের তথ্য হচ্ছে, ১৮ আগস্ট থেকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দিনে স্বয়ংক্রিয় মামলা সংখ্যা ৬৯৫টি। এর মধ্যে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর দায়ে ৬৫৮টি এবং ৩৭টি উলটোপথে চালানোর কারণে।

প্রথম দিনে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় স্বয়ংক্রিয় ৪৪৬টি মামলার অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর দায়ে ৪১৭টি এবং উলটোপথে গাড়ি চালানোর অপরাধে ২৯টি মামলা হয়েছে। পরদিন ৪৪৬ থেকে মামলার সংখ্যা ৯০ দশমিক ৫৮ শতাংশ কমার দিনে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর অপরাধে মামলা হয়েছে ৪২টি। ২০ আগস্ট অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর অপরাধে ২০টি মামলা হয় এবং উলটোপথের ঘটনা একটি। এর পরদিন অতিরিক্ত গাড়ি চালানোর অভিযোগে ১৯ এবং উলটোপথে যাওয়ার কারণে দুটি। ২২ আগস্ট ৪২টি এবং এর পরদিন মামলা সংখ্যা ৩৫। ২৪ আগস্ট উলটোপথে গাড়ি চালানোর অপরাধে একটি এবং অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে ২০টি মামলা হয়। ২৫ আগস্ট মামলার সংখ্যা খুবই কম, মাত্র ১৪টি। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার উলটোপথে গাড়ি চলাচলের মামলা শূন্যে নেমে আসে। বুধবার অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর অপরাধে মামলা ১৯টি এবং বৃহস্পতিবার ৩৪টি।

তথ্যগুলো ভাবনার বেশ খোরাক দিয়েছে। মহাসড়কের প্রতি পয়েন্টে সার্বক্ষণিক ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন সম্ভব হয় না। কোনো কোনো জায়গায় ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতি দেখলে চালক আইন মেনে চলার চেষ্টা করতেন। আবার পুলিশ না থাকলে আইন ভাঙতেন। এআই ক্যামেরার নজরদারির কারণে সড়কে চালকের মধ্যে আইন মানার অভ্যাস তৈরি হচ্ছে। যে কারণে মামলা কমে আসছে।

অনেক ক্ষেত্রে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ট্রাফিক পুলিশ মামলা দিতে গেলে গাড়ির প্রভাবশালী মালিকরা নানাভাবে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করতেন। কিন্তু স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরাধ শনাক্তের পর মামলা হওয়ায় মানুষের সেই সুযোগ থাকছে না। ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটারের বেশি গাড়ি চালালে মামলা হচ্ছে। ১৮ আগস্ট এআই ক্যামেরা উদ্বোধনের আগে পরীক্ষামূলক চালানো হয়েছে। তখন মামলা সংখ্যা প্রতিদিন চার শতাধিক ছিল। ম্যানুয়াল পদ্ধতিতেও ৪শর বেশি মামলা হতো। বলা বাহুল্য ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ হাইওয়ে পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর একটি প্রকল্প। এআই ক্যামেরা চালু হওয়ার পর তাদের পরিবহনের সব চালককে লিখিতভাবে সতর্ক করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ট্রাফিক আইন মেনে গাড়ি চালাতে হবে। নইলে ভিডিও মামলা হলে জরিমানা চালককেই বহন করতে হবে। ভিডিও মামলা চালুর পর রাস্তায় আগের চেয়ে বেশি সতর্ক থাকছে চালকরা। এ সতর্কতা ভয়ের বদলে নৈতিকতা অংশ হয়ে উঠলে মুখে মুখে উচ্চারিত ‘নিরাপদ সড়ক’ কার্যকরভাবে বাস্তব হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। কারন ভয়ে বা আরোপে প্রকৃত অভ্যস্ততা আসে না কখনো।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরও খবর
২০২5© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host