স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক »
রাশিয়ার ‘ব্যাপক’ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সাতজন একটি রেলওয়ে ডিপোতে কর্মরত ছিলেন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর আল আরাবিয়ার।
গ্রীষ্মকালীন ছুটি শেষে শিক্ষার্থীদের স্কুলে ফেরার ঠিক আগে চালানো এই হামলায় কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়ার হামলা বেড়ে যাওয়ায় রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছিল।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, রাতভর চালানো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় আটজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে।
ইউক্রেনীয় রেলওয়ের প্রধান নির্বাহী ওলেক্সান্দর পার্তসোভস্কি বলেন, একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কিয়েভের একটি রেলওয়ে ডিপো ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় আঘাত হানে।
তিনি জানান, ওই হামলায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ছয়জনই রেলওয়ের কর্মী। আরও একজন কর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পার্তসোভস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। একটি কর্মশালা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং কয়েকটি স্থানে এখনো আগুন জ্বলছে।
এদিকে কিয়েভের পূর্বাঞ্চলীয় শহর বরিসপিলে পৃথক হামলায় আরও একজন নিহত হয়েছেন বলে আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বাহিনী দূরপাল্লার অস্ত্র ও আক্রমণাত্মক ড্রোন ব্যবহার করে ‘ব্যাপক হামলা’ চালিয়েছে। তাদের দাবি, হামলার লক্ষ্য ছিল কিয়েভ ও আশপাশের অঞ্চলের সামরিক-শিল্প, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো।
এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলীয় ওডেসা অঞ্চলের অবকাঠামো এবং ওডেসা ও চর্নোমর্স্ক বন্দরের বিভিন্ন স্থাপনাতেও হামলা চালানোর দাবি করেছে মস্কো।
কিয়েভ আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো বলেন, আজ রাতে কিয়েভ অঞ্চল রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও হামলাকারী ড্রোনের ব্যাপক আক্রমণের মুখে পড়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীতে অন্তত এক ডজন বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং আকাশে বিস্ফোরণের ঝলকানি দেখা যায়। এর কিছুক্ষণ আগেই ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কবার্তা দিয়েছিল।
বিমান বাহিনী জানিয়েছে, কিয়েভ ও আশপাশের অঞ্চলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ অন্যান্য হামলার ঝুঁকি এখনো বিদ্যমান রয়েছে। তাই বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই দূরপাল্লার হামলা বাড়িয়েছে। এতে গুদাম, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, জ্বালানি অবকাঠামো, বন্দর ও জাহাজসহ বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে এবং বেসামরিক হতাহতের সংখ্যাও বাড়ছে।
এদিকে ইউক্রেন বর্তমানে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার সংকটে রয়েছে। বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ব্যবহৃত যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।