স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক »
বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও তার মৃত্যু ঘিরে রহস্য, আলোচনা ও বিতর্ক এখনো থামেনি। এই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছিল একটি বই, যা প্রকাশের অল্প সময়ের মধ্যেই আদালতের নির্দেশে নিষিদ্ধ হয়ে যায়।
‘সালমান শাহ, নক্ষত্রের আত্মহত্যা’ শিরোনামের বইটি লেখেন সাংবাদিক রবি আরমান। ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত বইটিতে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। আর এ বিষয়টিই বইটিকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়।
বইটি প্রকাশের পর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী এর বিষয়বস্তুর বিরুদ্ধে আপত্তি জানান। তার অভিযোগ ছিল, বইটিতে সালমান শাহর মৃত্যু সম্পর্কে অসত্য ও মানহানিকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এ অভিযোগে তিনি লেখক ও প্রকাশকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বইটির বিক্রি ও বিতরণ বন্ধের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বাজারে থাকা কপিগুলোও বাজেয়াপ্ত করা হয়। ফলে প্রকাশের অল্প সময়ের মধ্যেই বইটি নিষিদ্ধ ও দুর্লভ গ্রন্থে পরিণত হয়।
তৎকালীন এক জ্যেষ্ঠ বিনোদন সাংবাদিকের ভাষ্য অনুযায়ী, বইটিতে সালমান শাহর মৃত্যুর ক্ষেত্রে ‘আত্মহত্যা’ শব্দটি ব্যবহারের কারণেই পরিবারের পক্ষ থেকে সবচেয়ে বেশি আপত্তি ওঠে। কারণ সালমান শাহর মা বরাবরই দাবি করে আসছেন, তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছিল।
বইটির প্রচ্ছদের পেছনের লেখাতেও সালমান শাহকে বাংলা চলচ্চিত্রের আকাশে উদিত এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়। সেখানে তার অকালমৃত্যুর বেদনা এবং মৃত্যু ঘিরে রহস্যের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছিল।
প্রকাশের সময় বইটির প্রচারণায় দাবি করা হয়, এতে সালমান শাহর ব্যক্তিজীবনের নানা অজানা অধ্যায়ের পাশাপাশি সে সময়ের ঢাকাই চলচ্চিত্র অঙ্গনের বিভিন্ন ঘটনাও উঠে এসেছে। ফলে বইটি নিয়ে পাঠক ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল।
তবে আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে বইটির স্বাভাবিক বিপণন আর সম্ভব হয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর কপি বিরল হয়ে ওঠে। এরপরও সালমান শাহর মৃত্যু রহস্য নিয়ে মানুষের আগ্রহ অব্যাহত থাকায় বইটিকে ঘিরে কৌতূহল আজও রয়ে গেছে।
সালমান শাহর মৃত্যুর এত বছর পরও তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে আলোচনা থামেনি। আর সেই দীর্ঘ বিতর্কের ইতিহাসে ‘সালমান শাহ, নক্ষত্রের আত্মহত্যা’ বইটি এখনো একটি আলোচিত ও বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।