অনলাইন ডেস্ক
আদর্শিক রাজনীতির কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়ে কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সুবর্ণা ঠাকুর এখন বিএনপির সংসদ সদস্য। আজ দুপুরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী তার হাতে সংরক্ষিত নারী আসনের চূড়ান্ত মনোনয়ন তুলে দেন। দীর্ঘদিনের সক্রিয় আওয়ামী লীগ নেত্রীর এই ‘রাতিলারাতি’ ভোল পাল্টানো এবং বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের তাকে বরণ করে নেওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
সুবর্ণা ঠাকুর ওড়াকান্দি ঠাকুর পরিবারের সদস্য এবং গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির একজন প্রভাবশালী নেত্রী। বিস্ময়কর বিষয় হলো, তিনি এখনো আওয়ামী লীগের পদধারী নেত্রী হিসেবে কাগজে-কলমে বহাল রয়েছেন। অথচ কোনো প্রকার রাজনৈতিক বিবর্তন ছাড়াই সরাসরি বিএনপির এমপি হিসেবে তার অভিষেক হতে যাচ্ছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, বর্তমান রাজনীতিতে আদর্শের চেয়ে ‘সুবিধাবাদ’ এবং ‘লবিং’ কতটা শক্তিশালী।
বিএনপির দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীরা যারা গত ১৫ বছর হামলা-মামলা ও কারাবরণ করেছেন, তাদের চরমভাবে অবমূল্যায়ন করে একজন ‘নব্য অনুপ্রবেশকারী’ আওয়ামী লীগ নেত্রীকে এমপি করার সিদ্ধান্তে দলের ভেতরেই বিদ্রোহের আগুন জ্বলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দলের দুঃসময়ে যারা রক্ত দিল তাদের মূল্যায়ন না করে নৌকার মাঝিকে ধানের শীষের হাল দেওয়া হলো। এটা ত্যাগী কর্মীদের মুখে চপেটাঘাত ছাড়া আর কিছুই নয়।”
এর আগে সুবর্ণা ঠাকুরের কাছে আওয়ামী লীগের পদে থাকার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। বরং ধরি মাছ না ছুঁই পানির মতো বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বিএনপির মনোনয়ন বাগিয়ে নিতে ব্যস্ত ছিলেন। আজ রিজভীর হাত থেকে মনোনয়ন পাওয়ার পর তার সেই ‘ব্যস্ততার’ রহস্য উন্মোচিত হলো। লবিং ও ক্ষমতার মোহে তিনি নিজের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ঘরানা পাল্টাতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করেননি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন সক্রিয় আওয়ামী লীগ নেত্রীকে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন উপহার দেওয়া মূলত সুবিধাবাদী রাজনীতির চূড়ান্ত জয়। এর মাধ্যমে প্রমাণ হলো যে, যে দলই ক্ষমতায় আসুক বা আসার সম্ভাবনা তৈরি হোক, সুবিধাবাদীরা ঠিকই নিজেদের আখের গুছিয়ে নেয়। এতে তৃণমূলের নিবেদিতপ্রাণ কর্মীরা রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে এবং দেশে ‘সুযোগসন্ধানী’দের রাজত্ব কায়েম হবে।
গোপালগঞ্জের মাটিতে আওয়ামী লীগের ম্যান্ডেট নিয়ে রাজনীতি করা সুবর্ণা ঠাকুর এখন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হিসেবে সংসদে কী ভূমিকা রাখেন, তা নিয়ে এখন জনমনে নানা প্রশ্ন ও কৌতূহল দেখা দিয়েছে।





