স্বপ্ন প্রতিদিন রিপোর্ট
একদিকে গরমের তীব্রতা, অন্যদিকে মরণব্যাধি হামের প্রকোপ—দুইয়ে মিলে দেশের শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে পর্যটন শহর কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা কক্সবাজারকে হামের হটস্পট আখ্যায়িত করেছেন ইতিমধ্যে।
গত ৮০ দিনে কেবল এই জেলাতেই প্রায় ৯ হাজার শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভিড় করেছে। কক্সবাজার ছাড়িয়ে এই সংক্রমণ এখন ছড়িয়ে পড়েছে দেশের অন্তত আরও ছয়টি জেলায়।
কক্সবাজার: সংক্রমণের হটস্পট
শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে গত জানুয়ারি থেকে ২১শে মার্চ পর্যন্ত ৮,৭৫৯ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, ক্যাম্পে আক্রান্তের হার বাড়লেও মৃত্যুর হার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে। তবে জেলা সদর হাসপাতালের চিত্র ভিন্ন। গত তিন দিনে সেখানে ৪টি শিশুর প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এই রোগ।
সদর হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম জানিয়েছেন, বর্তমানে ৩১ জন শিশু চিকিৎসাধীন এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলার প্রস্তুতি চলছে।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মৃত্যুর মিছিল হামের প্রকোপ কেবল সীমান্তে সীমাবদ্ধ নেই, ছড়িয়ে পড়েছে উত্তরে ও মফস্বলে।
- চাঁপাইনবাবগঞ্জ: এক মাসে হামের উপসর্গে ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে চারজন জেলা হাসপাতালে এবং দুজন রাজশাহী মেডিক্যালে মারা যায়।
- টাঙ্গাইল: ১৩ মাস বয়সী এক শিশুকন্যার মৃত্যু হয়েছে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে।
- ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার বিকেলে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
আক্রান্তের চিত্রে অন্যান্য জেলা
- রাজবাড়ী:চলতি বছরে ৩২ জন ভর্তি, ৩ জনের শরীরে সংক্রমণ নিশ্চিত।
- চুয়াডাঙ্গা: হঠাৎ প্রাদুর্ভাব শুরু, আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
- মাগুরা: নতুন করে সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক। শিশুর শরীরে জ্বর ও ফুসকুড়ি দেখা দিলে বিলম্ব না করে নিকটস্থ হাসপাতালে বা আইসোলেশন সেন্টারে নিতে হবে। শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় রাখা এই সংক্রমণ ঠেকানোর একমাত্র দীর্ঘমেয়াদী উপায়।
বর্তমানে কক্সবাজার শহরসহ আশেপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অভিভাবকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া হচ্ছে কারণ সাধারণ শিশু ওয়ার্ডেই এখন হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা চলছে, যা অন্য শিশুদের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত টিকাদান জোরদার এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।






