স্বপ্ন প্রতিদিন রিপোর্ট
গোপালগঞ্জ: জেলার অনেক কৃষক ডিজেলচালিত সেচ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হলেও বর্তমান ডিজেল সংকটের কারণে বোরো ধান ও পাট চাষের ভরা মৌসুমে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে কৃষকদের মধ্যে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের গোপালগঞ্জ খামারবাড়ির তথ্য অনুসারে, জেলার ৫ উপজেলায় এবার ৮২ হাজার ৫৯৩ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ হাজার ৬৫৪ হেক্টর জমিতে ডিজেলচালিত সেচ মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। বাকি জমিতে বিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ ব্যবস্থা চলছে।
কিন্তু ডিজেলনির্ভর সেচের জন্য কৃষকরা চাহিদামতো ডিজেল পাচ্ছেন না। অনেক সময় বেশি দামে ডিজেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। ফলে বোরো চাষের খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন।
রোড়াশী ইউনিয়নের ঘোষগাতি গ্রামের কৃষক এনামুল মোল্লা বলেন, “ডিজেলের অভাবে আমরা খুব সমস্যায় পড়েছি। ধানক্ষেতে পানি দিতে পারছি না, পাটও বুনতে পারছি না। ফিলিং স্টেশন বা দোকান কোথাও ডিজেল পাচ্ছি না। বর্তমানে এক লিটার ডিজেল ১৫০ টাকা দামে কিনতে হচ্ছে। সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি—ডিজেল নিয়ন্ত্রণ করে সহজলভ্য করতে হবে। না হলে ধানের উৎপাদন কমে গেলে খাদ্য উৎপাদনও কমে যাবে।”
কৃষকরা জানান, নিম্ন জলাভূমি বেষ্টিত গোপালগঞ্জে বছরে মাত্র একবার বোরো ধান ফলে। এটিই জেলার কৃষকদের প্রধান ফসল। এ ধানের চালেই তাদের সারা বছরের সংসার চলে। বাড়তি ধান বিক্রি করে পরিবারের অন্যান্য খরচ মেটান। তাই ফলনে প্রভাব পড়লে সারা বছরই কষ্টে দিন কাটাতে হবে।
গোপালগঞ্জের শরীফ নূরজাহান ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার বাচ্চু শেখ বলেন, “কৃষকরা এখন ধানে সেচ দিচ্ছে, তাই তাদের ডিজেল সরবরাহকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। কিন্তু চাহিদা অনেক বেশি হলেও একবারে ৫ লিটারের বেশি ডিজেল দিতে পারছি না। ৫ লিটার শেষ হলে আবার আসলে দিতে পারব, যদি আমাদের কাছে ডিজেল থাকে।”
কৃষকরা বলছেন, সরকার যদি দ্রুত ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত না করে, তাহলে বোরো ধানের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা জেলার খাদ্য নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলবে।






