ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে জমি সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জেরে আলম মিয়া (৩০) নামে এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গফরগাঁও ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকসহ তিন জনকে আটক করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- গফরগাঁও ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন আইকন, ইউপি সদস্য মো. আব্দুল কাদের লিটন ও মাজাহারুল ইসলাম। গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন একই এলাকার বাসিন্দা।
নিহত আলম মিয়া উপজেলার গফরগাঁও ইউনিয়নের পরশীপাড়া গ্রামের ছহূর উদ্দিনের ছেলে। অন্যদিকে, আটক ইমরান হোসেন একই এলাকার বাসিন্দা। তবে তিনি বর্তমানে বহিস্কৃত বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরশীপাড়া গ্রামে আলম মিয়ার বাড়ির প্রবেশ পথের জমি নিয়ে প্রতিবেশী আছিয়া বেগমের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। আছিয়া বেগম অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা ইমরানের ফুফু।
এই বিরোধ মীমাংসায় তিন মাস আগে স্থানীয় একটি সালিশে আলম মিয়াকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়, যা নিয়ে তিনি মানসিকভাবে ক্ষুব্ধ ছিলেন।
গতকাল ২৬শে মার্চ, বৃহস্পতিবার বিকেলে আলম মিয়া ওই জমি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আছিয়া বেগমের বাড়ির সামনে হৈ চৈ করেন। খবর পেয়ে ইমরান হোসেন তার লোকজন নিয়ে আলমকে ধরে স্থানীয় কামালের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে লাশ বাড়ির সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।
রাত ১১টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
হত্যাকাণ্ডের পর অভিযানে নামে পুলিশ। শুক্রবার ভোরে উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রাম থেকে অভিযুক্ত ইমরান হোসেন ওরফে আইকনকে আটক করা হয়।
এদিকে ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন মা নাছিমা বেগম।
আহজারি করে তিনি বলেন, আমার প্রতিবন্ধী পোলাডারে ওরা পিডাইয়া মাইরা ফেলল। এখন কে আমারে মা বইলা ডাকব? আমি এই হত্যার বিচার চাই।
গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএসএম আতিকুর রহমান জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধান অভিযুক্তকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






