মাফিকুল ইসলাম, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি :
দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ৯নং হামিদপুর ইউনিয়নের জব্বারপাড়া গ্রামে চাঁদা না দেওয়ায় একটি গভীর নলকূপ দখল করে তালা লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। এতে করে এলাকায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা।
ভুক্তভোগী জুয়েল রানার অভিযোগে জানা যায়, জব্বারপাড়া মৌজার জে.এল নং–১৪৭, দাগ নং–২০৬-এর গভীর নলকূপটি পরিচালনার জন্য বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) দিনাজপুর রিজিয়নের পক্ষ থেকে স্মারক নং বিএমডিএ/নি:প্র:/দিনজ/প্রশাসন-৬২/সে.অপা.নি./২০১২-২০১৩/১৯২ অনুযায়ী ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অপারেটর কাম রেকর্ড কিপার হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়।
এর আগে ২০২৪ সালে নলকূপটির ট্রান্সমিটার চুরি হয়ে যাওয়ায় ২০২৫ সালে সেটি বন্ধ থাকে। পরে ২০২৬ সালে বিএমডিএ’র অনুমতিক্রমে জুয়েল রানা পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন অফিসে ১ লাখ ৮ হাজার টাকা জমা দিয়ে পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ গ্রহণ করে নলকূপটি চালু করেন। পরবর্তীতে তার স্ত্রী মোছাঃ মৌসুমি আক্তার পুতুলের নামে নলকূপ পরিচালনার দায়িত্ব প্রদান করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, নলকূপ চালু হওয়ার পর স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা দলবদ্ধভাবে নলকূপটি দখল করে ঘরে তালা লাগিয়ে দেন। অভিযুক্তদের মধ্যে সোহেল রানা, মোঃ রবিউল ইসলাম, মোঃ জাহিদুল ইসলাম, জিয়ারুল ইসলাম ও মোঃ রিপনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযুক্তরা ইউনিয়ন আওয়ামী-যুবলীগের কর্মী। গত দুই সপ্তাহ ধরে নলকূপটি দখল করে রাখায় পুরো এলাকায় সেচ সংকট দেখা দিয়েছে, যা চলতি মৌসুমে ফসল উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
এ বিষয়ে গভীর নলকূপের অপারেটর মোছাঃ মৌসুমি আক্তার পুতুল বলেন,
“বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বৈধ নিয়োগে আমরা নলকূপটি পরিচালনা করছি। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় নলকূপের ঘরে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
তিনি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।