1. admin@shwapnoprotidin.com : admin : ddn newsbd
সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ইউনূসের মব বাহিনীর সেনাপতি ছিলেন আসিফ নজরুল : আনিস আলমগীর জামালপুরে চাঁদা না পেয়ে বিষ দিয়ে মাছ নিধনের প্রতিবাদে এলাকাবাসীর মানববন্ধন আজহারীর পর এবার আহমাদুল্লাহর অস্ট্রেলিয়ান ভিসা বাতিল, উগ্রবাদীদের ছাড় নেই সাফ জবাব মন্ত্রীর চট্টগ্রামে সমুদ্রগামী হাজারো ট্রলার, লাইটার জাহাজ অলস বসে আছে, জ্বালানি সংকট ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর জোর ড. ইউনূসের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইনি নোটিশ অসাম্প্রদায়িক বৈশাখি উৎসবের শোভাযাত্রা বন্ধের অপচেষ্টা, এবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ উগ্র মতাদর্শীরা নিউইয়র্ক আদালতে জবানবন্দি দেবেন আহসান এইচ মনসুর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে থেকে মব জাস্টিস ঠেকাতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি: আসিফ নজরুল জামালপুরে জ্বালানি তেল না পেয়ে সড়ক অবরোধ

টাঙ্গাইলের বাসাইলে বালিকা বিদ্যালয় এলাকায় মনসুরের স্পা-রিসোর্ট

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ৩৮ সময় দর্শন

অনলাইন ডেস্ক
টাঙ্গাইলের বাসাইলে দাপনাজোর এলাকায় একই গেট ও রাস্তা ব্যবহার করে স্কুলছাত্রী এবং রিসোর্ট স্পা সেন্টারে অতিথিরা যাতায়াত করে। এ নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্পা সেন্টারটির মালিক বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য বিদায়ি গভর্নর আহসান হাবিব মনসুর। অভিযোগ উঠেছে, রিসোর্ট নির্মাণের সময় পৃথক প্রবেশপথ বা সীমানা প্রাচীরের ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে একই গেট ব্যবহার করছে স্কুলছাত্রী ও রিসোর্টের অতিথিরা। এতে প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে এক ধরনের মিশ্র পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, যা নিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করছেন অভিভাবকরা।

১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত মার্থা লিডস্ট্রিম নূরজাহান বালিকা উচ্চবিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে এলাকার কন্যাশিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। শুরুতে বিদ্যালয়ে দাপনাজোর ও আশপাশের গ্রামের চার শতাধিক ছাত্রী পড়াশোনা করলেও এখন তা কমে নেমে এসেছে ৮০ জনে। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানটি একসময় শান্ত ও নিরাপদ পরিবেশের জন্য সুপরিচিত ছিল। তবে ২০২০ সালে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতাদের উদ্যোগেই স্কুলসংলগ্ন বিস্তীর্ণ জায়গায় প্রথমে চালু করা হয় ওয়াটার গার্ডেন রিসোর্ট। পরে চালু হয় স্পা সেন্টার। এটির বর্তমান মালিক বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য বিদায়ি গভর্নর আহসান হাবিব মনসুর।

৩০৬.৫ শতাংশ জমি জুড়ে বিদ্যালয়টি স্থাপিত হলেও এখন প্রায় ১০০ শতাংশ জমি রিসোর্টের দখলে চলে গেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বাসভবন থাকলেও তা এখন রিসোর্টের কাজে ব্যবহার হয় বলেও জানান কিছু শিক্ষক। রিসোর্ট প্রতিষ্ঠার সময় একজন সদস্য বলেছিলেন, ‘আমাদের গভর্নর বলেছেন যে প্রবীণ ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারা অবসর সময় কাটাবেন এই রিসোর্টে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে স্পা সেন্টার চালু করা হয়েছে। এরপর এই স্পা সেন্টার বন্ধ করার জন্য এলাকাবাসী দাবি জানালে তারা মালিকদের শত্রুতে পরিণত হন।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী বলেন, ‘একটি বালিকা বিদ্যালয়ের পাশে স্পা সেন্টার পরিচালনা সামাজিকভাবে সংবেদনশীল বিষয়। একই গেট ব্যবহার করায় ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।’ একজন অভিভাবক বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের মেয়েরা নিশ্চিন্তে স্কুলে যাতায়াত করুক। কিন্তু রিসোর্টের অতিথিদের সঙ্গে একই প্রবেশপথ ব্যবহার হওয়ায় আমরা দুশ্চিন্তায় থাকি।’

আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা মন্তব্য করেন, এটি পরিকল্পনার ঘাটতি। শুরুতেই আলাদা গেট করলে এত বিতর্ক হতো না। এখন বিষয়টি পুরো এলাকার সম্মান ও শিক্ষার পরিবেশের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।

বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে এই কারণে যে, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্তদের একজন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান হাবিব মনসুর। স্থানীয়দের প্রশ্ন, এমন একজন ব্যক্তির সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কেন অবকাঠামোগত এই সংবেদনশীল বিষয়টি আগে থেকে গুরুত্ব পায়নি? যদিও এ বিষয়ে তার কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া বিদ্যালয়ের কয়েকবারের সভাপতিও তিনি। সভাপতি থাকার সময় বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি কাজের জন্য ৩ লাখ টাকা সরকারিভাবে বরাদ্দ করা হলেও তা দিয়ে রিসোর্টের বাউন্ডারি কাজ করা হয়। পরবর্তী সময়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রকৌশলী পরিদর্শন করে কাজ দেখতে না পেয়ে বিল বন্ধ করলে টিন দিয়ে তাড়াহুড়া করে এক রাতের মধ্যে কাজ দেখিয়ে বিল তুলে নেন এই আহসান হাবিব মনসুর।

এক শিক্ষক বলেন, ‘একই গেট ব্যবহার হওয়ায় আমরা বিব্রত ও উদ্বিগ্ন। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য দ্রুত পৃথক বাউন্ডারি ওয়াল ও গেট নির্মাণ প্রয়োজন।’

অন্যদিকে রিসোর্টের ভারপ্রাপ্ত জেনারেল ম্যানেজার জানিয়েছেন, মালিকপক্ষ দেশে ফিরলে পৃথক প্রবেশপথ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ রক্ষা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগেও নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।’

এ ঘটনায় এলাকায় একদিকে নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন উঠেছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা বিতর্ক নয়, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমেই পরিস্থিতির সমাধান হোক।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
২০২5© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host