ঢাকা, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য জটিলতা দেখা দিয়েছে। বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা (প্রায় ২০৯ জন) সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের (Constitution Reform Council/Commission) সদস্য হিসেবে আলাদা শপথ গ্রহণ করেননি। এর ফলে অন্য কিছু দলও প্রভাবিত হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে আজ সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে এ অনুষ্ঠান শুরু হয়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচিত এমপি সালাহউদ্দিন আহমদ শপথ অনুষ্ঠান শুরুর আগে দলীয় সদস্যদের জানান যে, তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিচ্ছেন না।
বিএনপির শপথ না নেওয়ার কারণ:
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সংবিধানে “সংবিধান সংস্কার পরিষদ” নামে কোনো সংস্থা বা পদ নেই। এটি সংবিধানে ধারণ করা হয়নি এবং তৃতীয় তফসিলে এ ধরনের শপথ ফর্মও অন্তর্ভুক্ত নেই। তিনি আরও বলেন, সিইসির এই শপথ পড়ানোর সাংবিধানিক এখতিয়ার নেই (শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে আছে)। দলটি সংবিধান মেনে চলে এবং ভবিষ্যতেও মেনে চলবে। এই পরিষদ গঠিত হলে প্রথমে সংবিধান সংশোধন করে এটি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। দলীয় চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যান্য দলের অবস্থান:
- জামায়াতে ইসলামী: প্রথমে বিএনপির না নেওয়ার কারণে তারা কোনো শপথই নেবেন না বলে জানিয়েছিলেন দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। তারা মনে করেন, সংস্কারবিহীন সংসদ অর্থহীন। তবে দুপুরে (সাড়ে ১২টার দিকে) তারা সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে উভয় শপথ নেন।
- এনসিপি (National Citizen Party): তারাও শেষ পর্যন্ত সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন।
- অন্যান্য শরিক দল বা স্বতন্ত্ররা: কিছু ক্ষেত্রে জামায়াত-সমর্থিত বা অন্যান্য ছোট দলের সদস্যরা শপথ নিয়েছেন, তবে বিএনপির মতো বড় দলের না নেওয়ায় শুরুতে অনিশ্চয়তা ছিল।
এ ঘটনা সংস্কার প্রক্রিয়ায় শুরুতেই হোঁচটের আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিএনপি মনে করে, এই পরিষদ গঠনের জন্য সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে, অন্যথায় এটি অসাংবিধানিক। অন্যদিকে, জামায়াতের মতো দলগুলো জুলাই সনদ বা গণভোটের চেতনা বাস্তবায়নের জন্য এ শপথকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে।এই ঘটনা নতুন সংসদের প্রথম দিনেই রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যা সংস্কার কমিশনের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে পারে।






