লক্ষ্মীপুরে নিখোঁজের ৭ দিন পর সেপটিক ট্যাংক থেকে ফজলে রাব্বি বাবু (২৩) নামের এক ছাত্রলীগ কর্মীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাকে কুপিয়ে হত্যার পর সেপটিক ট্যাংকে লাশ ফেলে দেওয়া হয় বলে ধারণা পুলিশের। নিহত রাব্বি চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন হাজিরপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব আলাদাদপুর গ্রামের বেল্লাল হোসেনের পুত্র। তিনি কফিল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন এবং ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত বলে জানিয়েছে পরিবার।
পরিবারের অভিযোগ, রাব্বি নিখোঁজের পর থেকে তার বাবা-মা ও প্রতিবেশীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে বারবার সহায়তা চেয়েছেন। এক সপ্তাহে থানায় অভিযোগ দায়ের, খোঁজাখুঁজি ও স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধান চালানো হলেও প্রাশাসনিক কোনো সহযোগিতা মেলেনি বলে ক্ষোভ জানায় পরিবার।
চন্দ্রগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোরশেদ আলম ও নিহতের চাচা হাজিরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামছুল আলমের বরাতে জানা যায়, গত ১৭ই জানুয়ারি রাত ১০টার দিকে রাব্বি মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তাকে অপহরণ করে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ ছিল।
ছেলেকে কোথাও খুঁজে না পেয়ে বাবা বেল্লাল হোসেন পরদিন রাতে চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি নিখোঁজ ডায়রি করেন।
পুলিশ ও স্বজনরা তাকে বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি করেও হদিস পাননি।
শনিবার দুপুরে প্রায় ২ কিলোমিটার দুরে উত্তরজয়পুর ইউনিয়নের চন্দ্রপ্রভাবাগ গ্রামের শেখ বাড়ির প্রবাসী কিরণের টয়লেটের সেপটিক ট্যাংক থেকে পচা গন্ধ ছড়ালে বাড়ির লোকজন স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রামবাসীকে খবর দেয়।
তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্যাংকের ঢাকনা তুরে লাশ দেখতে পেয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।
পুলিশ জানায়, লাশের মাথায় কোপানোর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
কারা কেন রাব্বিকে হত্যা করেছে, এ ব্যাপারে পরিবারের কেউ মুখ খুলতে রাজি না হলেও স্বজনরা জানান ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত থাকায় ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর থেকে রাব্বি এবং তার পরিবারের ওপর হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল স্থানীয় জামায়াত-শিবির-এনসিপি ও বিএনপির সন্ত্রাসীরা।
ওসি মোরশেদ আলম বলেন, খুনিদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার করতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।







