1. admin@shwapnoprotidin.com : admin : ddn newsbd
মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ড. ইউনূস লন্ডনে তারেক রহমানকে ট্রফি দিয়ে নির্বাচনের তারিখ নিয়ে আসেন: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সারা দেশেই হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে রোগীর ভিড় রাজবাড়ীতে বিষ দিয়ে মাছ ধরার ফাঁদে মারা পড়ল তিন শতাধিক হাঁস  জামিনে মুক্ত জামায়াত কর্মী বিবি সাওদা সংসদে মহামান্য রাষ্ট্রপতির মুখ দিয়ে আমরা বলিয়েছি ‘আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্ট’: এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী চবিতে রাজাকার গোলাম আযমের পোস্টারে ‘আমাকে জুতা মারুন’ স্লোগান: উত্তপ্ত ক্যাম্পাস ইউনূস আমলের হাম প্রতিরোধের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখলেই প্রাদুর্ভাবের কারণ জানা যাবে: মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ‘বড় ম্যাচে এমবাপেই ব্যবধান গড়ে দেবে’: আরবেলোয়া সিরাজগঞ্জে চরম দুর্ভোগে রোগীরা, ১৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দুই সার কারখানা বন্ধ, আরেকটি বন্ধের পথে

আজ বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের মহান বিপ্লবী মাষ্টার দা সূর্য সেনের ৯২তম হত্যা দিবস

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ১১৭ সময় দর্শন

 

রফিকুল ইসলাম, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

আজ ১২ জানুয়ারি বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের মহান বিপ্লবী মাষ্টার দা সূর্য সেনের ৯২তম হত্যা দিবস। আজকে মহান বিপ্লবী মাষ্টার দা’র অমর স্মৃতির প্রতি অতল শ্রদ্ধা ও লাল সালাম। তাঁকে ভুলে গেলে নিজেকে ভুলে যাওয়া হবে। তোমার বিপ্লব আজও উদীয়মান সূর্যের আলোর মতো। যতোদিন এই পৃথিবীতে সূর্য উঠবে, ততোদিন তুমিও থাকবে পৃথিবীর সকল বিপ্লবীদের অন্তরের অন্তঃস্থলে।

মাষ্টার দা’র স্মৃতি স্মরণে একটি ছোট্ট গল্প শেয়ার করছি…

বিয়ের রাত, মাস্টারদা এসেছেন বিয়ে করতে। বিয়ের মন্ত্র পড়া হবে, এমন সময় হঠাৎ পাশ থেকে একজন মাস্টারদার হাতে গুঁজে দিল একটু চিরকুট। চিরকুট পড়ে খুবই চিন্তিত ও গম্ভীর হয়ে গেলেন মাস্টারদা। গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ এসেছে কলকাতার দলের উচ্চমহল থেকে। ফুলশয্যার রাতে নির্জন কক্ষে সহধর্মিণী পুষ্পকে বললেন “তোমার কাছে আমার অপরাধের সীমা নেই। তুমি আমার অগ্নি সাক্ষী করা স্ত্রী। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তুমিই আমার স্ত্রী থাকবে। দলের গুরুত্বপূর্ণ কাজে আমার ডাক এসেছে। আজ ই তোমার কাছ থেকে আমাকে বিদায় নিতে হবে।” অশ্রুসিক্ত নয়নে মাস্টারদাকে বিদায় দিয়েছিলেন নব বিবাহিতা স্ত্রী পুষ্প। শুধু জিজ্ঞেস করেছিলেন মাস্টারদার চিঠি পাবে কিনা।
কথা রেখেছিলেন মাস্টারদা। চিঠি আসতো পুষ্পর কাছে, খুব গোপনে। সে চিঠি শুরু হতো “স্নেহের পুষ্প” দিয়ে আর শেষ হতো “তোমারই সূর্য” দিয়ে। আর দেখা হয়নি স্বামী-স্ত্রীর? হয়েছিল, পুষ্প যখন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত, মৃত্যু পথযাত্রী; সূর্য তখন জেলে। প্যারোলে কয়েক ঘণ্টার জন্য ছাড়া পেয়ে স্নেহের পুষ্পকে দেখতে এসেছিলেন মাস্টারদা। কিন্তু তার আগেই জীবন-প্রদীপ নিভে গেছে পুষ্পর।

২রা ফেব্রুয়ারী ১৯৩৩ সাল….
পলাতক সূর্য সেনকে গৈরালা গ্রামে নিয়ে এসেছেন বিপ্লবী ব্রজেন সেন । মাষ্টারদার সাথে রয়েছেন তার একান্ত অনুগত শান্তি, কল্পনা দত্ত, সুশীল ও মণি দত্ত । তাঁরা ছিলেন গ্রামের বিশ্বাস বাড়িতে, পরম যত্নে আগলে রেখেছিলেন সে বাড়ির বড়বধূ ক্ষিরোদপ্রভা ।

বেশ ছিলেন কিন্ত বিপদ এলো অন্য দিক দিয়ে । প্রতিবেশী নেত্র সেনের সন্দেহ হলো কারা আছে বিশ্বাস বাড়িতে? কিসের এত ফিসফাস, গুঞ্জন। খবর লাগাতে বললেন নিজের গিন্নিকে ।
গ্রাম্য বধূটি সরল মনে এসে বললো, “ও বাড়িতে সূর্য সেন লুকিয়ে আছে গো!! অমন লোককে খাওয়ালেও যে পূণ্যি লাভ!!”
শুনে লাফ দিয়ে উঠলো নেত্র। খবর দিলেই যে কড়কড়ে দশ হাজার টাকা!! বউকে আশ্বস্ত করে ব্যাগ হাতে তখনই বেরিয়ে পড়লো, সোজা উঠলো গিয়ে থানায় ।

সেদিন রাতে ঘুম ভাঙতে চমকে উঠলো ব্রজেন, জানলা দিয়ে লণ্ঠন দেখিয়ে কি করছে দাদা নেত্র সেন? এক মিনিটও লাগলো না বুঝতে, ছুট লাগালেন বিশ্বাস বাড়ির দিকে। দেরী হয়ে গেছে ততক্ষনে, ক্যাপ্টেন ওয়ামসলের নেতৃত্বে গোটা বাড়ি ঘিরে ফেলেছে গোর্খা সেনার দল। রকেট বোমার আলোতে সবকিছু দিনের মতো স্পষ্ট।

পরদিন সমস্ত সংবাদপত্রের হেডলাইন….. ‘গৈরালা নামক গ্রামে সূর্য সেন গ্রেফতার। এনাকে ধরবার জন্য সরকার দশহাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করিয়াছিলেন।’ (অমৃতবাজার পত্রিকা ১৭.০২.১৯৩৩)

তিনদিন পর………
সন্ধে বেলায় জলখাবার খেতে বসেছে নেত্র সেন, পাশে স্ত্রী। দরজায় শব্দ হতে উঠে গিয়ে খুলে দিলেন। পাড়ারই চেনা ছেলে দেখা করতে এসেছে স্বামীর সঙ্গে। সবে উনি ভাবছেন সেখান থেকে সরে যাবেন কিনা, আচমকা পাড়ার সেই ছেলের হাতের ভোজালির কোপে স্বামীর মুণ্ডু ছিটকে পড়লো!!

থরথর কাঁপছেন গ্রাম্য বধূ। ঘাতক যাওয়ার আগে বলে গেলেন, মাস্টার দার সঙ্গে বেইমানি করার উপযুক্ত শাস্তি।

বৃটিশ পুলিশ কতবার কতভাবে জেরা করেছে সাধারণ আটপৌরে ঐ বধূটিকে। একবার তিনি বলুন স্বামীর ঘাতকের নাম। মুখ খোলেননি নেত্র সেনের বিধবা স্ত্রী|
শুধু বলেছিলেন চোখের সামনে তিনি স্বামীকে লুটিয়ে পড়তে দেখে মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত। স্বামী হারানোর যন্ত্রণায় এখন কষ্ট পাচ্ছেন, আর কিছুই বলার নেই। কিন্তু যে মানসিক যন্ত্রণায় তিনি সবথেকে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন তা হল এই জেনে যে তাঁর স্বামী নেত্র সেন একজন বিশ্বাসঘাতক, যিনি পুলিশের পুরস্কারের লোভে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন মাস্টারদার মতো ব্যক্তির সঙ্গে। তাই তাঁকে হত্যা করে ঠিকই করেছেন মাস্টার দার সহযোগী ঐ তরুণ। মেরে ফেললেও তিনি ওই বিপ্লবীর নাম ফাঁস করবেন না।

হয়রানির বেশি আর কিছু নেত্র সেনের স্ত্রীকে করেনি ব্রিটিশ পুলিশ। ততদিনে তাদের উদ্দেশ্য সিদ্ধ হয়ে গেছে। কারাগারে নির্মম অত্যাচার করা হচ্ছে মাস্টারদার উপরে।

অনেকদিন পর জানা গিয়েছিল হত্যাকারী আর কেউ নয় – সেন বংশের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করার দায়িত্ব স্বেচ্ছায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিল ঐ বাড়িরই ছোট ছেলে কিরন সেন। মাষ্টারদা মরার আগে জেনে গেছিলেন দেশদ্রোহীকে চরম দন্ড দিতে তাঁর মন্ত্রশিষ্যরা এতটুকু দয়া দেখায়নি।
মুক্তির মন্দিরের সোপান তলে এরকম কত কিরণ নিঃশব্দে দিয়েছে বলিদান ……আমরা মনে রাখিনি।

মুক্তির মন্দির সোপান তলে
কত প্রাণ হলো বলিদান
লেখা আছে অশ্রুজলে

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
২০২5© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host