লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরে রাজনৈতিক সহিংসতার ভয়াবহ রূপ আবারও নতুন করে সামনে এলো। বিএনপি নেতা বেলাল হোসেনের বসতঘরে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ঘুমন্ত অবস্থায় সাত বছরের শিশু আয়েশা বেগমের আগুনে পুড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় গুরুতর অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন বেলাল হোসেন ও তাঁর দুই কন্যা বিথি আক্তার ও স্মৃতি আক্তার। রাজনীতির হিংস্র প্রতিহিংসায় একটি নিষ্পাপ শিশুর প্রাণ ঝরে যাওয়ায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। সারাদেশেই আজ সহিংসরুপ ধারণ করেছে।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরমনসা এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেলাল হোসেন রাতের খাবার শেষে পরিবার নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে ঘরের দরজায় বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়া ও আগুনের মধ্যে বন্দি হয়ে পড়ে পুরো পরিবার। আগুনে পুড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় শিশু আয়েশা বেগম। প্রতিবেশীরা চিৎকার শুনে ছুটে এসে তালা ভেঙে বেলাল হোসেন ও তাঁর দুই কন্যাকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাদের অবস্থার অবনতি হলে বিথি আক্তার ও স্মৃতি আক্তারকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, দু’জনের শরীরের বড় অংশ দগ্ধ হয়েছে এবং অবস্থা আশঙ্কাজনক।
নিহত শিশুর বাবা-মা ও স্বজনদের আহাজারিতে এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। রাজনীতির সংঘাতে একটি শিশুর এমন মৃত্যু সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর আতঙ্ক ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের মূল্য কি এভাবেই নিষ্পাপ প্রাণ দিয়ে দিতে হবে? ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আজাদ হোসেন বলেন, “এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক সন্ত্রাস। বেলাল হোসেন বিএনপির সক্রিয় নেতা হওয়ায় তার পরিবারকে টার্গেট করা হয়েছে। একটি শিশুকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার মতো বর্বর ঘটনা যারা ঘটিয়েছে, তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।”
লক্ষ্মীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রনজিত কুমার দাস জানান, “ঘটনাস্থল থেকে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় তিনজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়, যার মধ্যে দু’জনের অবস্থা গুরুতর।”
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, “ঘরে তালা লাগিয়ে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এটি পরিকল্পিত নাশকতা কি না—সব দিক গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।”
এই নৃশংস ঘটনার পর এলাকাজুড়ে নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এমন মানবিক বিপর্যয় আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। সচেতন মহল বলছে, মানুষ হত্যা এখন ডালভাত হয়ে গেছে। সারাদেশেই নৃশংসতা চলছে। আইনশৃংঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ ধরনের খারাপ। কোন বিচার নেই। এভাবে একটা দেশ চলতে পারে না।