ঢাকা: রাজধানীর মিরপুরে ঐতিহাসিক হযরত শাহ আলী বোগদাদী (রহ.)-এর মাজারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদে সারাদেশে প্রতিবাদী মিছিল ও সমাবেশ করেছে সুন্নিপন্থী জনগণ ও আশেকানবৃন্দ।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দিবাগত রাতে মাজার প্রাঙ্গণে ওরশ চলাকালীন ‘তৌহিদী জনতা’ নামধারী একদল উগ্রবাদী জামায়াত শিবির নেতাকর্মী লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা উপস্থিত ভক্ত ও জিয়ারতকারীদের মারধর করে এবং মাজার চত্বরে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা এ ঘটনায় প্রতিবাদে তাৎক্ষনিক মাজার প্রাঙ্গনে জড়ো হয়ে হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা করে, এবং হামলাকারীড়া পালিয়ে যায়।
এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার (১৫ মে) ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সুন্নিপন্থী সংগঠনগুলো প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ করে। প্রতিবাদকারীরা হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে দেশব্যাপী মাজার-খানকা-দরবারে হামলার ধারাবাহিকতা
এই হামলাকে অনেকে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সারাদেশে ঘটে যাওয়া মাজার, খানকা শরীফ ও দরবার শরীফে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন। সূত্র অনুসারে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সারাদেশে ৯৭ থেকে ১৩৮টির মতো মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৩ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন। রাজবাড়ীর নুরাল পাগলার মাজার, নারায়ণগঞ্জের দেওয়ানবাগ শরীফসহ বিভিন্ন জেলার খানকা ও দরবারে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মামলা হয়নি এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সুন্নিপন্থী নেতৃবৃন্দ বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মাজারপন্থীদের ওপর এ ধরনের সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় সুফি ঐতিহ্য ও ধর্মীয় সহনশীলতার ওপর বড় আঘাত পড়েছে। মিরপুরের এ ঘটনা সেই অন্ধকার অধ্যায়েরই পুনরাবৃত্তি বলে তারা মনে করেন।
পুলিশ ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছে।এ ধরনের হামলা ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি বলে মনে করছেন সচেতন মহল। সুন্নিপন্থী জনগণ দাবি করেছে, সরকার যেন মাজার ও খানকাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।






