রাজধানীর রামপুরার বনশ্রী এলাকায় একটি হাফেজি মাদ্রাসার বাথরুম থেকে আব্দুল্লাহ (১০) নামে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ ২০শে মে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে বনশ্রী সি ব্লকের আলোকিত কোরান ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসার বাথরুম থেকে গলায় গামছা প্যাঁচানো মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রামপুরা থানার এসআই মো. সাইফুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাদ্রাসার বাথরুমে গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় আব্দুল্লাহর মরদেহ দেখতে পায়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে বুধবার সকালে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এসআই সাইফুল আরও জানান, নিহত শিশুর শরীরের বাহ্যিক কোথাও কোনো ধরনের জখম বা আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। তবে সুরতহাল করার সময় শিশুটির পায়ুপথে অস্বাভাবিক ও গুরুতর জখমের চিহ্ন লক্ষ্য করা গেছে।। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান তিনি।
আলামত পর্যালোচনা করে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, বাথরুমে ঝুলিয়ে দেওয়ার আগে শিশুটিকে অত্যন্ত নির্মমভাবে বলাৎকার বা যৌন নির্যাতন করা হয়ে থাকতে পারে। এই পাশবিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বা লোকলজ্জার ভয়ে শিশুটি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে, নাকি অপরাধ ঢাকতে তাকে নির্যাতন শেষে শ্বাসরোধে হত্যা করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। আব্দুল্লাহর বাবা প্রবাসে থাকেন। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তার বাবার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেছে বলেও জানা গেছে।
নিহত আব্দুল্লাহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার প্রবাসী আবুল কালাম আজাদের ছেলে। সে বনশ্রীর আলোকিত কোরান ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসার হিফজ বিভাগে অধ্যয়নরত ছিল এবং সেখানেই থাকত।






