শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন, বিক্ষোভে উত্তাল ব্রাইট স্কুল
প্রতিবেদকের নাম :
-
আপডেটের সময় :
বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
-
৩৫
সময় দর্শন
স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক
রাজধানীর দনিয়ায় ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্রী সাবিকুন নাহারের আত্মহত্যা ঘিরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার দিন স্কুলের চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটন পরীক্ষার কক্ষ থেকে ওই ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে গালিগালাজ করেন এবং তার মাকে স্কুলে উপস্থিত হতে বলেন। এ ঘটনার জেরে ছাত্রী সাবিকুন নাহার আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি করেন সহপাঠীরা। ঘটনার প্রতিবাদে এবং চেয়ারম্যান লিটনের বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা স্কুলের প্রবেশপথে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এসময় তাদের ‘সাবিকুন নাহার মরলো কেন, লিটন তুই জবাব দে’; ‘লিটনের বিচার চাই’সহ নানান স্লোগান দিতে দেখা যায়। দুপুর সাড়ে ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময়েও সেখানে বিক্ষোভ চলছিল।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বুধবার (২০ মে) স্কুলের পরীক্ষার কক্ষ থেকে দশম শ্রেণির ছাত্রী সাবিকুন নাহারকে ডেকে নেন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটন। এসময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন তিনি। পরে সেখান থেকে বেরিয়ে ক্লাসে না ফিরে বাসায় চলে যায় সাবিকুন নাহার। এরপর ওই ভুক্তভোগী ছাত্রীর মাকে মোবাইল ফোনে কল করে স্কুলে যেতে বলা হয়। এ ঘটনায় তার মা বিরক্ত হয়ে মেয়েকে বকাঝকা করেন। পরে বিকেলে দনিয়ার নিজ বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে সাবিকুন নাহার। সাবিকুন নাহারের সহপাঠী এক ছাত্রী বলেন, তার বান্ধবী পরীক্ষায় নকলও করেনি, কাউকে দেখেও লিখছিল না। অকারণে তাকে চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটন ডেকে নিয়ে গালিগালাজ করে। একটা মেয়েকে এভাবে বললে লজ্জায় তার আর বেঁচে থাকতে ইচ্ছে হবে না। আমরা মনে করি, স্কুলের চেয়ারম্যান লিটনের অত্যাচারে আমাদের বান্ধবী সাবিকুন নাহার এ পথ বেছে নিয়েছে। তাই এটি আত্মহত্যা নয়, মার্ডার। আমরা লিটনের বিচার চাই। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আরেক ছাত্র বলে, চেয়ারম্যান লিটন মেয়েদের টিজ (উত্ত্যক্ত) করেন। তার কথামতো না চললে কারণে অকারণে ডেকে নিয়ে বকাঝকা ও গালিগালাজ করেন। টিসি দিয়ে দেওয়ার ভয় দেখান। আমরা লিটনের এ অত্যাচার আর মানবো না। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এই বিষয়ে ব্রাইট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মঈদুর রহমানের কাছে বলেন, ‘সহপাঠী আত্মহত্যা করায় শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ ছিল। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলে বোঝানোর চেষ্টা করছি।’ ছাত্রীকে গালিগালাজ করা এবং তার মাকে ডেকে পাঠানোর অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ ফোনকলটি কেটে দেন।
অভিযোগ বিষয়ে জানতে স্কুলের চেয়ারম্যান মাসুদ হাসান লিটনকে কয়েক দফা ফোনকল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে তার মুঠোফোনে এসএসএম পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।
আত্মহত্যা করা সাবিকুন নাহারের বাবার নাম খলিলুর রহমান। তাদের গ্রামের বাড়ি নরসিংদী জেলায়। পরিবারের সঙ্গে দনিয়ার নাসির উদ্দীন সড়কের একটি ভাড়া বাসায় থাকতো সাবিকুন নাহার।
কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান বলেন, গতকাল ওই শিক্ষার্থী নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করে। প্রাথমিকভাবে আমরা জেনেছিলাম, মায়ের ওপর অভিমান করে সে গলায় ফাঁস নিয়েছে। সেজন্য পরিবারের অনুরোধে ময়নাতদন্ত করা হয়নি। শুধু মরদেহের সুরতহাল করা হয়। আজকে শিক্ষার্থীরা এ নিয়ে বিক্ষোভ করছে বলে জেনেছি। পরিবার ও সহপাঠীরা কেউ অভিযোগ দিলে তদন্ত করে দেখা হবে।
Please Share This Post in Your Social Media
এই বিভাগের আরও খবর