স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আদালত অঙ্গন। ৪ মে, সোমবার বিকেলে মনোনয়নপত্র সংগ্রহকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি-সমর্থিত আইনজীবীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, স্লোগান এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এক পক্ষ ‘গণতান্ত্রিক অধিকার’ দাবি করলেও অন্য পক্ষ আওয়ামী লীগের দোহাই দিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
আগামী ২১ মে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে সামনে রেখে ৪ মে বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময় নির্ধারিত ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ৩টার দিকে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুর রশিদের নেতৃত্বে একদল আইনজীবী বার লাইব্রেরিতে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এসময় আগে থেকে অবস্থান নেওয়া বিএনপি-সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্যরা তাঁদের পথ আটকে দেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা দ্রুত বার লাইব্রেরির মূল ফটক বন্ধ করে দেন। এরপরই দুই পক্ষ লাইব্রেরির সামনে মুখোমুখি অবস্থানে নিয়ে স্লোগান দিতে শুরু করে।
উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি প্রার্থী আবদুর রশিদ অভিযোগ করে বলেন, ”আমরা সাধারণ আইনজীবী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে এসেছিলাম। কিন্তু আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকারে বাধা দেওয়া হয়েছে। আমাদের বার লাইব্রেরিতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি, ফলে আমরা মনোনয়ন ফরমও সংগ্রহ করতে পারিনি।”
অন্যদিকে, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম চট্টগ্রামের সদস্যসচিব কামরুল ইসলাম চৌধুরী তাঁর অবস্থানে অনড়। তিনি বলেন, ”যেহেতু রাষ্ট্রীয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ, তাই এই তাদের’কে নির্বাচনে অংশ দিতে পারবেনা।
উত্তপ্ত এই পরিস্থিতির মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার রওশন আরা জানান, বিকেল ৫টা পর্যন্ত তারা দপ্তরে অবস্থান করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, “যে কোনো বৈধ প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। বাধার বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে এবং তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন।”
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পরপরই আদালত ভবনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। তখন দুই পক্ষ মুখোমুখি থাকায় কিছুটা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে।






