স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক
আগের কর্মস্থলে এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির দায়ে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন তিনি। সেই তথ্য গোপন করে, কোনো অভিজ্ঞতা সনদ ও ছাড়পত্র ছাড়াই অন্য একটি বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। এভাবে টানা ১৪ বছর অবৈধভাবে চাকরি করে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতাও তুলেছেন। অবশেষে তদন্তে জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ায় ওই শিক্ষককে তার গৃহীত বেতনের ৪২ লাখ ৩৭ হাজার ৫৫০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে জেলা শিক্ষা অফিস। ঘটনাটি ঘটেছে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গণিপুর জাফরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে। অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম শাহীন মাহমুদ।
জানা গেছে, শাহীন মাহমুদ ২০০১ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ মে আক্কেলপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (কৃষি) পদে নিয়োগ পান। ২০১০ খ্রিষ্টাব্দের ৯ জুলাই ওই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানি করেন তিনি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গঠিত তদন্ত কমিটি ওই বছরের ৭ অক্টোবর অভিযোগের সত্যতা পেয়ে প্রতিবেদন দাখিল করে। এর প্রেক্ষিতে ২০১০ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ নভেম্বর পরিচালনা কমিটির জরুরি সভায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্ত হওয়ার পর শাহীন মাহমুদ আর ওই বিদ্যালয়ে যাননি। উল্টো ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ ফেব্রুয়ারি পূর্বের প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র ও ১০ বছরের অভিজ্ঞতার সনদ ছাড়াই তিনি একই উপজেলার গণিপুর জাফর উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে যোগ দেন। এলাকাবাসীর একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি জেলা শিক্ষা অফিস তদন্তে নামে। তদন্তে তার নিয়োগ সম্পূর্ণ অবৈধ ও বিধিবহির্ভূত প্রমাণিত হয়।
ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন স্বাক্ষরিত এক পত্রে বলা হয়েছে, নিয়োগ অবৈধ হওয়ায় ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত সরকারি অংশের বেতন-ভাতা বাবদ ৪২ লাখ ৩৭ হাজার ৫৫০ টাকা সোনালী ব্যাংকের নির্দিষ্ট চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, চিঠিতে বিভিন্ন দপ্তরে অনুলিপি দেওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাড়া কেউ তা এখনো পায়নি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাবেদ ইকবাল হাসান এবং সোনালী ব্যাংকের আক্কেলপুর শাখার ব্যবস্থাপক জারজিস আলম দুজনেই চিঠি না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষক শাহীন মাহমুদ দাবি করে বসেছেন। তিনি বলেন, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সঙ্গে বিষয়টি সমঝোতা হয়েছে। তাই আমি চিঠি আনতে যাইনি।
তার এই দাবি নাকচ করে দিয়ে ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, সমঝোতার কোনো সুযোগ নেই। তিনি এখনো টাকা ফেরত দেননি। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। চিঠির অনুলিপি হয়তো দ্রুতই সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো পেয়ে যাবে।
অন্যদিকে আক্কেলপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোমিন জানান, সহকারী প্রধান শিক্ষক পদের জন্য ১০ বছরের অভিজ্ঞতা লাগে, কিন্তু তার আগেই শাহীন মাহমুদ বরখাস্ত হওয়ায় তাকে কোনো ছাড়পত্র বা সনদ দেওয়া হয়নি। বিষয়টি তিনি লিখিতভাবে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন।






