অনলাইন ডেস্ক
শিহাবের এই পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজনীতির নামে প্রতিহিংসা কীভাবে একটি সাজানো সংসার আর একজন মায়ের প্রাণ কেড়ে নিতে পারে, এ ঘটনা তারই এক জীবন্ত দলিল হয়ে রইল। নেটিজেনদের প্রশ্ন—আদর্শের এই লড়াইয়ে আর কত মায়ের কোল খালি হলে থামবে এই প্রতিহিংসার রাজনীতি?
রাজনীতি মানুষের জন্য হওয়ার কথা থাকলেও, সেই রাজনীতিই যখন কেড়ে নেয় জন্মদাত্রী মায়ের শেষ হাসি, তখন আদর্শের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়ায় দহন আর আক্ষেপ। সম্প্রতি ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে শিহাব উদ্দীন তাইমুর নামের এক শিক্ষার্থী তুলে ধরেছেন তার জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়। ছাত্র রাজনীতি করার অপরাধে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার, প্রক্টরের অসহযোগিতা এবং বিনা চিকিৎসায় শয্যাশায়ী হওয়া মায়ের করুণ মৃত্যু।
২৪ অক্টোবর ২০২৪। শিহাবের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা ছিল। মা নিজ হাতে নাস্তা খাইয়ে এগিয়ে দিয়েছিলেন গেট পর্যন্ত। কে জানত, সেটাই ছিল মায়ের হাতের শেষ খাবার! পরীক্ষা শেষ হওয়ার মাত্র ১৫ মিনিট আগে ‘মব’-এর আক্রমণের শিকার হন তিনি। লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের কনফারেন্স রুমে চলাকালীন পরীক্ষার মধ্যেই হামলা চালায় একদল উন্মত্ত যুবক।
শিহাবের অভিযোগ, প্রক্টরের আশ্বাসে পরীক্ষায় বসলেও শেষ মুহূর্তে প্রক্টরই তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। শুধু তাই নয়, কোনো ওয়ারেন্ট বা অভিযোগ ছাড়াই তাকে ১১ ঘণ্টা আটকে রাখা হয় এবং পরে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
আটকের সময়কার বর্ণনায় শিহাব তুলে ধরেন এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা। প্রক্টরিয়াল বডির গাড়িতে থাকা যুবকরা তার পারিবারিক পরিচয় জেনেই তাকে ‘লীগার’ হিসেবে তকমা দেয়। শিহাবের স্পষ্ট স্বীকারোক্তি, “আমি ছাত্রলীগ করি, এই আমার দোষ।” নিছক রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাকে যে মানসিক ও শারীরিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, তার রেশ গিয়ে পড়ে তার অসুস্থ মায়ের ওপর।
গ্রেপ্তারের খবর পাওয়ার পরদিনই শয্যাশায়ী হন শিহাবের মা। তিন সপ্তাহ পর যখন জেলের গরাদ ভেঙে মায়ের কাছে পৌঁছান, ততক্ষণে সেই ‘মোটাতাজা’ মানুষটি কেবল হাড়ের কঙ্কালে পরিণত হয়েছেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ ডাক্তাররা আশা ছেড়ে দিলে তাকে বাসায় নেওয়া হয়। এরপর ৩ মার্চ ২০২৫, বিকেল ৪টা ৫২ মিনিটে ছেলের হাত ধরে চিরবিদায় নেন তিনি।
শিহাব আক্ষেপ করে লিখেন, “যার সমস্ত পৃথিবী ছিলাম আমি, তাকে এক কণা ভূমিও উপহার দিতে পারিনি।” মায়ের শেষ ইচ্ছা ছিল ছেলে বড় মানুষ হবে, আদর্শে অবিচল থাকবে। কিন্তু শিহাবের হৃদয়ে এখন কেবলই জমাট বাঁধা কষ্ট আর এক কঠিন জেদ।
মায়ের মৃত্যুর পর এক বিন্দু জলও ঝরেনি শিহাবের চোখে। সেই শোক এখন রূপান্তরিত হয়েছে ‘নারকীয়’ প্রতিশোধের নেশায়। তিনি লিখেছেন, “আমি জানি না জাহান্নাম কেমন দেখতে হয়। কিন্তু আমি যদি বেঁচে থাকি… মানব কল্পনায় নরক যতখানি নারকীয় হতে পারে, ঠিক ততখানি কঠোর প্রতিশোধ আমি নিব সেই বুনো শুয়োরের দল থেকে যারা তার (মা) এই ভোগান্তির জন্য দায়ী।”
পোস্টে আমজাদ হোসেন হৃদয় বলেছেন,মা সবকিছুর উর্ধ্বে। সন্তানের এমন পরিস্থিতি মা’রা নিতে পারে না। আল্লাহ আন্টিকে জান্নাত নসিব করুক। আমিন।
আরিফ ইসতিয়াক লিখেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিন থেকে দেখেছি আন্টির জন্য তোর সংগ্রাম। ঢাকা-ফরিদপুর-ঢাকা দৌড়াদৌড়ি ও রক্ত সংগ্রহের মধ্যেই থাকতে হতো তোকে। দোয়া করতাম, আল্লাহ যেনো আন্টিকে তোর সফলতা দেখার সুযোগ দেন! হলো না, কিছুই হলো না। কঠিন সময়ে বন্ধু হিসেবে তোর জন্য কিছু করতেও পারি নি। ক্ষমা করে দিস। আন্টির জন্য দোয়া করি।
আল আমিন রহমান লিখেছেন, পৃথিবীর যে প্রান্তে কিংবা যে বাস্তবতায় ওরা থাকুক না কেন, ওদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া হবে। আল্লাহ যেন আন্টিকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন। আমিন।#






