পঞ্চগড়ে জ্বালানি তেলের সংকটে কাটা-মাড়াই করতে না পারায় খেতেই নষ্ট হচ্ছে গম। বাম্পার ফলন হলেও আধুনিক যন্ত্রপাতির জন্য মিলছে না তেল, এতে বিপাকে চাষিরা। জেলা প্রশাসন বলছে, চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহের চেষ্টা চলছে। উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ে এবার গমের বাম্পার ফলন হয়েছে। সোনালি ফসলে মাঠ ভরে উঠলেও চাষিদের মনে নেই স্বস্তি। কারণ ফসল পেকে গেলেও তা ঘরে তোলার উপায় নেই। আধুনিক কৃষি যন্ত্র হারভেস্টারের ওপর নির্ভরশীল চাষিরা। তবে চলমান সংকটে মিলছে না প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল। এতে দিনের পর দিন খেতেই পড়ে থাকছে পাকা গম। কোথাও গমের দানায় আগাছা গজাচ্ছে, আবার কোথাও শুকিয়ে কমে যাচ্ছে ওজন। একদিকে শ্রমিকের অভাব অন্যদিকে জ্বালানি সংকটে মাঠের ফসল মাঠেই পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। চাষিরা বলছেন, তেলের অভাবের কারণে গম কাটা যাচ্ছে না। ভোলা বা বরিশাল থেকে হারভেস্টার ভাড়া করে আনা হচ্ছে। কিন্তু তেলের অভাবে এক ঘণ্টা সেটি চালানো হলে ছয় ঘণ্টা বসে থাকে। মাঠে থাকা অবস্থায়ই এ কারণে পাকা গম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। হারভেস্টার চালক জানান, তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করে তেল পাওয়া গেছে। তাও মাত্র ৫০০ টাকার তেল। জেলায় এবার ১৭ হাজার ১৮০ হেক্টর জমিতে গমের আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। কিন্তু মৌসুমের শেষ সময়ে এসে এমন সংকটে লোকসানের মুখে প্রান্তিক চাষিরা। পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল মতিন বলেন, ‘কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে চাষিদের আগে থেকেই সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। এখনও চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’ পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন বলেন, ‘প্লাকিং মেশিনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে নজরদারি করা হচ্ছে। জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। কৃষি অফিসারের প্রত্যয়নের ভিত্তিতে, তাঁদের চাহিদা নিরুপণ করে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে।’