স্টাফ রিপোর্টার
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে এক পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। ২৫শে ফেব্রুয়ারি, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার চানন্দি ইউনিয়নের প্রকল্প বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর নিজের ওপর হামলার অভিযোগ এনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ সড়কে বসে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তার সমর্থকেরা চানন্দি ইউনিয়নে বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। পাল্টা অভিযোগে বিএনপি নেতারা বলেন, তাদের কার্যালয় ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে। বিকেল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত দুই পক্ষই সড়কে অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
উভয় পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, হান্নান মাসউদ দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রকল্প বাজার এলাকায় গেলে বিএনপির সমর্থকেরা তার গাড়িবহর লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে তিনি ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন কিছুটা পিছু হটেন। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া–পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ ঘটনায় হাতিয়া থানার উপপরিদর্শক শহীদুল আলমসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে এনসিপির কর্মীদের ১৫ থেকে ২০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
হান্নান মাসউদের অভিযোগ, নির্বাচনী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের খোঁজ নিতে গেলে তার ওপর হামলা করা হয়। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে তিনি সড়কে অবস্থান নেন এবং পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তোলেন। পরে পুলিশের অনুরোধে তিনি সড়ক ত্যাগ করেন।
অন্যদিকে চানন্দি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইকবাল মাহবুব দাবি করেন, সংসদ সদস্য লাঠিসোঁটা হাতে দলীয় কর্মীদের নিয়ে বাজারে গিয়ে এক ব্যক্তিকে খোঁজাখুঁজি করছিলেন এবং তাদের এক কর্মীকে মারধর করা হয়। এতে বাজারের লোকজন প্রতিক্রিয়া দেখান। বিএনপির পক্ষ থেকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো তাদের কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ তোলা হয়।
ঘটনাস্থলে থাকা হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, দুই পক্ষের মাঝে থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, সংসদ সদস্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ সার্বিক পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ ও একজন সহকারী পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।