স্বপ্ন প্রতিদিন রিপোর্ট
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ফেরি উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
আগামী ত্রাদোদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এর আগেও এই দ্বীপ উপজেলা বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে।
আজ ৩০শে জানুয়ারি, শুক্রবার বিকেলে হাতিয়ার নলচিরা ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেরি উদ্বোধনের খবরে বিএনপি ও এনসিপির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী নলচিরা ঘাটে উপস্থিত হন।
এ সময় উদ্বোধনের কৃতিত্ব নেওয়াকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকেন।
নলচিরা ঘাট এলাকার বাসিন্দা নুর হোসেন জানান, ফেরির ক্রেডিট নেওয়া নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি হয়েছে।
এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে এলাকা থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করলে হাতাহাতি শুরু হয়। এতে অনেকেই আহত হয়েছেন।
এদিকে, ফেরি উদ্বোধনের সময় এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে হাতিয়া থানা ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ।
তিনি জানান, ফেরি উদ্বোধনের সময় নলচিরা ঘাটে এনসিপি নেতৃবৃন্দের ওপর পরিকল্পিতভাবে একটি তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী বাহিনী হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে, বিএনপির পক্ষ থেকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাহাবুবুর রহমান শামীম জানান, ফেরি চালু হওয়া হাতিয়াবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন।
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল আলম জানান, হাতাহাতির খবর শুনেছি। তবে আহতের কথা তিনি জানেন না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
এর আগেও গত ৯ জানুয়ারী নোয়াখালীর হাতিয়ায় ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় একটি সড়ক কাটাকে কেন্দ্র করে অপপ্রচার ও পাল্টা অভিযোগের জেরে এই সহিংসতার সূত্রপাত হয়েছে বলে দাবি করেছে দুই পক্ষই।