আজ সকালে হোটেলে গিয়ে নাস্তা করার পরে টাস্কি খাইলাম। আপনাদের সঙ্গে একটু শেয়ার করি। রুটি ১৫ টাকা আর ডাউল-ভাজি ১৫ টাকা। জিগাইলাম, হঠাৎ ৫ টাকা করে বাড়তি দাম কেন? হোটেল মালিক বললো, গ্যাসের দাম বৃদ্ধি। দুইটা রুটি ও ডাউল ভাজি খেলাম ৪৫ টাকায় দিয়ে। আসলে যেকোনো কিছুর দাম বাড়লেও পরিশেষে (কাষ্টমার) সাধারণ পাবলিকের ওপর গিয়ে বর্তায়। এটাই আমাদের দেশের অলিখিত নিয়ম।
সিন্ডিকেট করে গ্যাসের দামবৃদ্ধি করলো কারা? আর আমাদের সকালের নাস্তায় ১৫ টাকা বেশী দিতে হচ্ছে!
যেকোনো পণ্যের সিন্ডিকেট হলে – রাষ্ট্রপ্রধান, রাষ্ট্রের ক্ষমতাবান মানুষ, রাজনীতিবিদ, আমলা বা সরকারি কর্মচারী, বড় বড় ব্যবসায়ী ও খুচরা ব্যবসায়ী কারো কিন্তু কোন প্রকার সমস্যা নেই। কারণ – বাড়তি দামটা (কাষ্টমার) সাধারণ পাবলিকের ওপরই বর্তাবে। রাষ্ট্রের সকল দায়, সকল ঋনের ভোজা, সকল প্রতিবন্ধকতাসহ সবকিছু (জনগন) সাধারণ পাবলিকের ওপর গিয়ে চাপে। ওই সাধারণ পাবলিকই (জনগন) ভুক্তভোগী হয়।
রাষ্ট্রপ্রধান ব্যর্থ হলে, সাধারণ পাবলিকের মাশুল দিতে হয়। নেতারা দেশ চালাতে ব্যর্থ হলে, পাবলিকের মাশুল দিতে হয়। এমপি ও মন্ত্রীরা ব্যর্থ হলে, পাবলিকেরই মাশুল দিতে হয়। আমরা (জনগন) সাধারণ পাবলিকরা তাদেরকে ব্যর্থ বলি। গালাগালি আর নেতিবাচক সমালোচনা করি। দেশ চালাতে কিন্তু আমলা আর সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মীচারীও লাগে। তারা কিন্তু কখনো ব্যর্থ হয় না। তারা ঠিকই নিজের আখের গুছিয়ে নেয়। আসলে রাষ্ট্র কিন্তু একা চলতে পারে না। সবাই মিলেই রাষ্ট্র পরিচালনা করে।
শুনেছি মানুষ পরিবর্তন না হলে রাষ্ট্র পরিবর্তন হয় না। তাই আসুন আমরা পরিবর্তন হই। আমরা পরিবর্তন না হলে রাষ্ট্র পরিবর্তন হবে না। আমরা পরিবর্তন হলেই রাষ্ট্র পরিবর্তন হবে। আসুন সকল রাজনৈতিক, আমলা আর ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে সচেতনভাবে রুখে দাঁড়াই।