স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুরের দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। মুহূর্তের মধ্যেই ভবনের চারপাশের দেয়াল উড়ে যায়। বিস্ফোরণে ভবনের দুটি কক্ষের দেয়াল সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে এবং ছাদ ও বিমে ফাটল দেখা দেয়। পাশের আরও দুটি কক্ষেও ফাটল ধরেছে। পাশাপাশি সংলগ্ন একটি ভবনের দেয়াল ও জানালাও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আফসার উদ্দিন নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, মাদ্রাসাটিতে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করত। তবে শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় মাদ্রাসা বন্ধ ছিল। এতে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
বিস্ফোরণে মাদ্রাসার পরিচালক শেখ আল আমিন (৩২), তার স্ত্রী আছিয়া বেগম (২৮) এবং তাদের তিন সন্তানের মধ্যে দুই ছেলে- উমায়েত (১০) ও আব্দুল্লাহ (৭) আহত হন। আহতদের মধ্যে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
জানা গেছে, ভবনের এক পাশে তিনটি কক্ষে মাদ্রাসার কার্যক্রম পরিচালিত হতো। অন্য পাশে একটি কক্ষে পরিচালক শেখ আল আমিন পরিবারসহ গত তিন বছর ধরে বসবাস করে আসছিলেন। পাশের ভবনের বাসিন্দা হুমায়ুন কবির বলেন, বিস্ফোরণের ফলে তাদের ভবনের একটি অংশ ফেটে গেছে এবং ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জাকির হোসেন জানান, তিনি গাড়ি গ্যারেজে রেখে বাসায় ফিরছিলেন, এমন সময় বিস্ফোরণে ওপর থেকে ইট পড়ে তার মাথায় লাগে। এতে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
বাড়ির মালিক পারভীন বেগম জানান, গত তিন বছর ধরে তার বাড়ি ভাড়া নিয়ে মুফতি হারুন মাদ্রাসাটি পরিচালনা করতেন। তিনি তার শ্যালক আল আমিন ও শ্যালকের স্ত্রী আছিয়াকে মাদ্রাসা দেখাশোনার দায়িত্ব দেন। তবে মাদ্রাসার আড়ালে কোনো অবৈধ কার্যক্রম চলছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, ঘটনাস্থলে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট কাজ করেছে। সেখান থেকে ককটেল, দাহ্য পদার্থ ও বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ক্রাইম সিন ইউনিট ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে।






