স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক »
বিশিষ্ট সাহাবি ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) সামুদ গোত্রের ‘হিজর’ নামক স্থান অতিক্রমকালে নিজ সাহাবিদের বললেন, তোমরা এসব শাস্তিপ্রাপ্তদের এলাকায় প্রবেশ করলে ক্রন্দনরত অবস্থায় প্রবেশ করবে। আর যদি কান্না না আসে, তাহলে তোমরা তাদের এলাকায় প্রবেশ কোরো না-যাতে তাদের মতো তোমাদের ওপর কোনো বিপদ না আসে, তাদের মতো তোমাদের ওপরেও শাস্তি আপতিত না হয়।
(সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৩৩)
অন্য এক বর্ণনায় আছে, ইবনে ওমর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ‘হিজর’ অতিক্রম করার সময় বললেন, যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছে, তোমরা তাদের বাসস্থানে প্রবেশ কোরো না, যাতে তাদের মতো তোমাদের ওপরেও কোনো আজাব পতিত না হয়। তবে কান্নারত অবস্থায় প্রবেশ করতে পারো। এরপরে রাসুল (সা.) নিজের মাথা ঢেকে দ্রুত সে উপত্যকা অতিক্রম করলেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৭৪৬৪)
শিক্ষা ও বিধান
১. আল্লাহর আজাবের নিদর্শন দেখলে অন্তর ভীত হওয়া উচিত।শাস্তিপ্রাপ্ত কোনো জাতির ধ্বংসাবশেষ দেখলে শুধু পর্যটন বা বিনোদনের দৃষ্টিতে দেখা উচিত নয়। বরং নিজের অন্তরে আল্লাহর ভয় সৃষ্টি করা এবং তাঁদের পরিণতি থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত।
২. পাপ ও অবাধ্যতার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। সামুদ জাতি আল্লাহর অবাধ্যতা ও নবী সালেহ (আ.)-এর বিরোধিতা করেছিল।
ফলে তারা কঠিন শাস্তির শিকার হয়। তাদের ঘটনা আমাদের সতর্ক করে যে, আল্লাহর বিধান অমান্য করার পরিণতি দুনিয়া ও আখিরাত—উভয় ক্ষেত্রেই ভয়াবহ হতে পারে।
৩. শাস্তিপ্রাপ্তদের আবাসস্থল বিনোদনের স্থান নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের এমন স্থানে প্রবেশের ক্ষেত্রে সতর্ক করেছেন। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতির নিদর্শনকে নিছক দর্শনীয় স্থান বা আনন্দ-বিনোদনের বিষয় বানানো উচিত নয়।
৪. ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া ঈমানের দাবি। কোরআনে বারবার পূর্ববর্তী জাতির ধ্বংসের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে মানুষ তাদের পরিণতি দেখে শিক্ষা গ্রহণ করে। আল্লাহ বলেন, ‘তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করেনি, যাতে দেখতে পেত তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল?’ (সুরা : রুম, আয়াত : ৯)
অতএব ঐতিহাসিক নিদর্শন দেখার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত শিক্ষা ও আত্মসংশোধন।
৫. অন্তরে আল্লাহর ভয় জাগ্রত রাখা জরুরি। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের কান্নারত অবস্থায় প্রবেশ করতে বলেছেন। এর অর্থ হলো—আল্লাহর শাস্তির কথা স্মরণ করে হৃদয়ে ভয়, বিনয় ও অনুশোচনা সৃষ্টি করা।
৬. গুনাহগারদের পরিণতি থেকে নিজেকে নিরাপদ মনে করা যাবে না। অন্যের ধ্বংস দেখে ‘আমি তো ভালো আছি’—এমন আত্মতুষ্টিতে ভোগা বিপজ্জনক। বরং নিজের ঈমান, আমল ও চরিত্র নিয়ে চিন্তা করা উচিত।
৭. আল্লাহর আজাবের ব্যাপারে উদাসীন হওয়া উচিত নয়। হাদিসে নবী (সা.) নিজেই দ্রুত সেই উপত্যকা অতিক্রম করেছেন এবং মাথা ঢেকে নিয়েছেন। এতে আল্লাহর শাস্তির ব্যাপারে তাঁর গভীর ভয় ও বিনয়ের প্রকাশ ঘটে।
৮. বিপদগ্রস্ত বা শাস্তিপ্রাপ্ত মানুষের জায়গায় অপ্রয়োজনীয় অবস্থান করা থেকে বিরত থাকা উচিত। হাদিসটি এমন স্থান সম্পর্কে সতর্ক করেছে যেখানে আল্লাহর আজাব নেমে এসেছিল। এতে একজন মুমিনের জন্য সতর্কতা ও আত্মরক্ষার শিক্ষা রয়েছে।