স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক
ঢাকা, ৫ই মে ২০২৬-: দেশজুড়ে হামের প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। হামের মইহামারি এতোই তীব্র আকার ধারন করেছে যে, করোনা মহামারির সময়ের মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন করেছে। কিন্তু সরকারের প্রাথমিক সিন্ধান্ত মোতাবেক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এটি করতে গেলে ডাকসুর (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ) ইসলামী ছাত্র শিবিরের নেতাদের বাধায় তা সম্ভব হয়নি। ফলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের অডিটোরিয়ামের পাশে ২০ শয্যার ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে হামের সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ অসহনীয়। শিশুদের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এমন সংকটময় মুহূর্তে দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল মাঠে অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপনের প্রস্তাব দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এটি করোনাকালীন ফিল্ড হাসপাতালের মতোই জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয়।
তবে ডাকসুর নেতৃত্ব, বিশেষ করে শিবিরপন্থী সদস্যদের আপত্তির কারণে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক বলেন, ‘এখন খেলার মৌসুম। সেখানে অস্থায়ী হামের চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন হলে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় বিঘ্ন সৃষ্টি হবে’।
ডাকসুর সহ-সম্পাদক এসএম ফরহাদ বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ অস্থায়ী হাসপাতাল বানাতে কতদিনের জন্য বরাদ্দ নিতে চায়, সেটা জানানো হয়নি। অনির্দিষ্টকালের জন্য তো মাঠ দেয়া যাবে না’।
ডাকসুর এই অবস্থানের কারণে সরকারকে বিকল্প জায়গা খুঁজতে হয়।
অবশেষে ঢামেক হাসপাতালের শহীদ মিলন অডিটোরিয়ামের পাশে ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন করা হয়।
দেশের সেরা বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ জনস্বাস্থ্যের এই সংকটে ব্যবহার করা যায়নি বলে অনেকে হতাশা প্রকাশ করেছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। হাসপাতালগুলোতে রোগীর ঢল সামলাতে অতিরিক্ত বেড ও আইসোলেশন সুবিধা জরুরি। করোনার মতো পরিস্থিতিতে ফিল্ড হাসপাতালের মতো ব্যবস্থা জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারতো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল মাঠে।
এদিকে হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার পাশাপাশি সচেতনতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশের শীর্ষ বিদ্যাপীঠের ছাত্র সংগঠনের এমন সিদ্ধান্ত জনস্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না—তা নিয়ে সমাজে বিতর্ক চলছে।






